ভালোবাসার গল্প

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

অন্য প্রেমিককে



- জীবনানন্দ দাশ
মাছরাঙা চ’লে গেছে — আজ নয় কবেকার কথা;
তারপর বারবার ফিরে এসে দৃশ্যে উজ্জল।
দিতে চেয়ে মানুষের অবহেলা উপেক্ষায় হ’য়ে গেছে ক্ষয়;
বেদনা পেয়েছে তবু মানুষের নিজেরও হৃদয়
প্রকৃতির অনির্বচনীয় সব চিহ্ন থেকে দু’ চোখ ফিরিয়ে;
বুদ্ধি আর লালসার সাধনাকে সব চেয়ে বড় ভেবে নিয়ে।


মাছরাঙা চ’লে গেছে — আজ নয় কবেকার কথা;
তারপর বারবার ফিরে এসে ডানাপালকের উজ্জলতা
ক্ষয় ক’রে তারপর হয়ে গেছে ক্ষয়।
মাছরাঙা মানুষের মতো সূর্য নয়?
কাজ করে কথা ব’লে চিন্তা করে চলেছে মানব;
যদিও সে শ্রেষ্ঠ চিন্তা সারাদিন চিন্তানাশা সাগরের জলে
ডুবে গিয়ে নিঃশব্দতা ছাড়া আর অন্য কিছু বলে?

শ্মশানের ভূত

সময়টা 2006 সাল। আমি আর মামা এক রুমে ঘুমিয়েছি। বাড়ির সবাই এক আত্মিয়ের বাড়িতে গেছে বিয়ের অনুষ্টানে। সারা বাড়িতে মামা আর আমি মিলে দুজন মানুষ। নানু বাড়িটা এক অজপাড়া গায়ে। বাড়ির পিছনে বিশাল লিচু বাগান। তার পিছনেই ফসলের মাঠ। যতদূর চোখ যায় শুধু ধানী মাঠ। ...
.


রাত এগারোটা ..মামার প্রকৃতির ডাক পেয়েছে। সেইসময় ভূত প্রেতের উপদ্রব একটু বেশিই ছিলো। মামা আমাকেও ডাক দিলেন। দুজনে বাইরে গেলাম। একা যাওয়ার সাহস হয় না। তাছাড়া সেসময় ইলেকট্রিসিটি ছিলো না। মামা তার ছোট পেন্সিল ব্যাটারি চালিত টর্চটা সাথে নিলেন। দুজনে চল্লাম বাগানের দিকের টয়লেটে। হঠাৎ মামা থেমে গেলো।
_কি হলো মামা থামলেন কেন?
_সামনে দেখতো
সামনে তাকিয়ে দেখি লিচু গাছের গোড়ায় একটা আলো। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না এটা হারিকেনের আলো নাকি অন্যকিছু। আমাদের থেকে আনুমানিক বিশ গজ দূরে আলোটা।মামা কিছু একটা ভেবে বল্লেন ...
_আমার মনে হচ্ছে চোর এসেছে লিচু চোর করতে। চলো চোরটাকে আজ ধরতেই হবে।
ফিসফিসিয়ে মামা আমায় কথাগুলো বল্লেন। আমি তখন অনেক ছোট ছিলাম। ভূতের ভয় তো ছিলো তাছাড়া চোরকেও সেসময় ভয় পেতাম। তবুও মামার কথায় সায় দিলাম। মামা আর আমি দুজনে আলোর উৎসের দিকে যেতে লাগলাম। হাটতে হাটতে সেই লিচু গাছটার গোড়ায় চলে গেলাম। একি আলোর উৎসটা এখনো আমাদের থেকে বিশ গজ দূরেই অবস্তান করছে। মামা আমাকে বল্লো..বেটা মনে হয় টের পেয়েছে আমাদের। মামা তার টর্চ টা আলোর দিকে তাক করলেন কিন্তু স্পষ্ট কিছু দেখলো না। মামা ক্ষেপে গেলেন। আজ চোরের একদিন কি আমার একদিন। এই বলে মামা চোরের পিছনে ছুটতে লাগলেন। আমিও ছুটতে লাগলাম মামার পিছনে পিছনে। বাগান পার হয়ে ধান ক্ষেত ঢুকে পরেছি। তবু চোরের কাছাকাছি যেতে পারছি না। চোরের কোনো ক্লান্তিও দেখছি না। তার কোনো পায়ের শব্দ ও পাচ্ছি না। মামা হাঁপিয়ে গেছে সাথে আমিও। চারদিকে তাকালাম শুধুই অন্ধকার। পায়ের নিচে জমির কাদা মাটি। কিন্তু আলোর উৎস টাও এখন থেমে আছে। ঠিক বিশ গজ দূরেই। আমি মামাকে বল্লাম মামা এটা যদি চোর হতো তাহলে তো কবেই পালাতো কিন্তু এটাতো আমাদের কাছাকাছি দাড়িয়ে আছে। মামার মাথায় আগুন চেপেছে। মামা তাকে ধরেই ছাড়বে। আবার ছুট। ধান ক্ষেতের মাঝে খালের পারে দাড়ালাম আমরা। খালের ওপারে একটা শ্মশান আছে । এই শ্মশানকে ঘিরে অনেক ভূতুড়ে কথা প্রচলিত আছে গ্রামে। আমরা দেখলাম শ্মশান ঘিরে অনেকগুলো আলোর কুন্ড ওড়াউড়ি করছে। আমি তো প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম। মামা তবুও আমায় সাহস রাখতে বল্লো। বল্লো চলো বাড়ির দিকে যাওয়া যাক। এই জায়গাটা বেশি ভালো না। দুজনে বাড়ির দিকে হাটছি। আমি পিছনে ফিরে একবার তাকালাম। আলো গুলো এখনো ওড়াউড়ি করছে। জোরে পা চালাতে লাগলাম দুজন। বাড়ির পিছনের লিচু বাগানের ভিতর দিয়েই ঢুকতে হবে বাড়িতে।আমরা লিচু বাগানে ঢুকার সাথে সাথেই লক্ষ করলাম একটা লিচু গাছের গোড়ায় একটা আলোর কুন্ড। আমাদের থেকে আনুমানিক বিশ গজ দূরে। আমাদের দুজনেরই শরীর হিম হয়ে আসছে। এদিকে টর্চের ব্যাটারি ডাউন। টর্চটাও নিভে যাচ্ছে। থেকে যাচ্ছে শুধুই অন্ধকার আর বিশ গজ দূরের সেই আলোর কুন্ডটা।
.
-------সমাপ্ত------

সিনিয়র ফাজিল বউ

Writer : Pantha Shahria !!


- ইয়া মাবুদ আমার মতো পিচ্চিটরেই
পাইলা বিয়া দেওয়ার জন্য,
আমার বাপটা আমারে কুরবানি দিয়াই
ছাড়ল।
ভয়ে ভয়ে রুমে যেতেই বউয়ের চিৎকার।
হায় হায় কীইইই হয়েছে আপু,
এই যা বউরে আপু ডাইকা ফালাইছি।
- ঐ আমারে কীইইই বললা।
- আসলে সবাইরে আপু বলে বলে অভ্যাস
তো তাই, আগে বিয়ে করিনি তো তাই
হঠাৎ করে আপু বের হয়ে গেছে।
আপনি টেনশন কইরেন না আমার
দুই দিনেই ঠিক হয়ে যাবে।
- ঐ পোলা তোর সাথে আমার
বিয়ে হয়েছে বলে স্বামী গিরি
দেখাতে আসবানা, নেহাত
আব্বুর কথা ফেলতে পাড়ি না
তাই, না হলে তোমার মতো পিচ্চিরে
বিয়ে করতে আমার বয়েই গেছে।
- কীইইই বললেন, আপনার কপার
ভালা যে আমার মতো এমন একটা কিউট
সুইট জামাই পাইছেন, কার ভাগ্যে হয়
শুনি।
আমার ও বিয়ে করার কোন শখ নাই
বুঝলেন ঐ সালা বাপটার কথাই রাজি
হইছি এই মাত্র।
- হুমমমম হুমমমম হইছে, এবার পিচ্চি
বাবুর মতো বেলকনিতে গিয়া ঘুমাই
পড়ো যাও।
- কীইইই, আমি ঘুমাবো বেলকনিতে, ঐ আপনার কোন দয়া মায়া নাই
এমনিতেই কীইইই ঠান্ডা তার মধ্যে
বেলকনিতে ঘুমাব।
- ঐ তাইলে কীইইই হুমমমম আমি
কোন পিচ্চির সাথে ঘুমাতে পারব না।
- আল্লার দোহায় লাগে আমারে
আর পিচ্চি কইয়েন না কেমন।
বিয়ে করার আগে মনে ছিল না হুমমমম।
- হুমমমম ছিল ঐ যে আব্বুর ভয়ে করতে
হইছে।
- থাক থাক বুঝি আমি।
- ঐ কীইইই বোঝ শুনি।
- আমার মতো একটা কিউট ছেলেরে
হাত ছাড়া করবা না তাই, হি হি হি।
- ঐ কীইইই বললা।
- না কিছু না, আপনি থাকেন কেমন
আমি আইসক্রিম খাইতে যামু।
বলেই চলে আসছিলাম।
- ঐ দাঁড়াও আমি ও যাব।
- কীইইই আপনি যাবেন মানে, নতুন
বউ কেউ দেখলে কী বলবে।
- আরে যা বলে বলুন তুমি নিয়া
যাবা কী যাবা না।
- হি হি এমন একটা সু্ন্দর মেয়ের কথা কেউ
ফেলতে পারে,
আরে কিন্তুু আমি তো যাব পাঁচিল টপনে।
আপনি যেতে পারবেন।
- ঐ তখন থেকে কীইইই আপনি আপনি করছ
তুমি বল।
- হি হি ওকে,
আর হ্যা পড়ে কিছু হইলে কিন্তুু আমার কোন দোষ নাই।


ক্রাস ম্যাডাম




ঠিক আছে চলো।
- ওই এই সব গয়না শাড়ি পড়ে যাবা নাকি।
- হুমমমম।
- আল্লাহ কী করমু আমি, এই সব পড়ে
পাঁচিল টপকাতে পারবা হুমমমম পাগলি।
অন্য কিছু পড়ে এস যাও।
হুমমমম এবার ঠিক আছে।
একটা মই নিয়ে আসলাম চোরের
মতো, তার পড়ে বউটারে উপরে তুলে
যেই আমি উঠতে যাব, সেই রফিক
চাচা মনে যে আমাদের কাজের লোক
জোরে বলে উঠল চোর চোর চোর,
একবার ভাবেন আজকে আমার বাসর
রাত, আর আমি বউরে নিয়া পাঁচিল টপকে
আইসক্রিম খাইতে যাইতেছি।
তারপর দুই জনে দিলাম দৌড়।
হি হি হি।
- ঐ সাহরিয়া হাঁসো কেন।
- আরে কে বলবে বলো আজকে আমাদের
বিয়ে হইছে, বিয়ের
দিন সবাই চোর বলে দৌড়ানি দিল।
আচ্ছা তুমি আমার নাম জানলে কেমনে।
- আরে আব্বু বলছে, তোমার ব্যাপারে আমি
সব জানি হি হি।
- কীইইই মেয়েরে বাবা, আমি তো ওর নামটা
ও এখন অবদি জানি না।
আচ্ছা তোমার নাম কীইইই।
- ঐ বিয়ে করছ বউয়ের নাম যান না।
- না মানে তোমারে প্রথম দেখেই
ভাল লাগছিল তো তাই আর নাম
শুনিনাই, ভাবছিলাম বাসর ঘরে
শুনব, কিন্তুু আমার কপাল।
ঐ নাম বললা না তো।
- আমার নাম তুবা গাধা।
- আচ্ছা তুমি কেমন এমন
একটা পিচ্চিকে বিয়ে করলে শুনি।
- কার কপালে এমন কিউট পিচ্চি জামাই
জুটে বলো তাই বুঝলা।
ঐ আজকে কিন্তুু আমাকে নিয়ে ঘুরবা
কেমন।
- হুমমমম, অলরেডি ঘুরতেছি ম্যাডাম।
চলেন আইসক্রিম খাই।
আহা কত্ত সু্ন্দর কইরা আইসক্রিম
খায়,
জীবনে ভাবিনাই এমন সুন্দর বউ হইব আমার
আহা কী ভালা কপাল আমার।
- মামা টাকা দেন।
- হায় হায় টাকা তো আনি নাই,
বউ না না তুবা তোমার কাছে ৫০টাকা হবে
পিলিজ,
আমার না টাকা আনতে মনে নাই।
- কীইইই হনুমান, এই নাও ধরো টাকা।
- হি হি হি কীইইই ভালা বউ আমার
প্রথম রাতেই বাঁচাইছে, আচ্ছা
তুবা তুমি একবার দেখেই কেন
বিয়েতে রাজি হলে।
- আরে কে বলছে একবার দেখছি,
একবার তুমি ডাব চুরি করতে গিয়ে
ধরা পড়ছিলে মনে আছে,
- হুম সেটা তো সেই দুই বছর আগে।
- তোমার বাবা সবার সামনে কান
ধইরা দাঁড় করাই রাখছিল, হি হি
কী যে কিউট লাগছিল সেদিন।
- ঐ তার মানে তুমি ও ছিলে সেদিন।
- হুমমমম বাঁদর তোমার সব
দুষ্টুমির খবর যানি, আর এটা ও যানি
আজকে ও তোমারে কান ধরাই রাখা
হবে।
- কীইইই, কিন্তুু কেন।
- কারণ আসার সময় আমি দড়জা খুলে
রেখে আসছি, হি হি হি
- কীইইই, ওই কীইইই করছ এইটা,
কেমন ফাজিল মেয়েরে বাবা।
আচ্ছা তুবা কেমন মজা না,
আমরা বাসর রাত বাদ
দিয়ে রাস্তাই ঘুরতেছি।
- হুমমমম আর সেই জন্যই তো
আমি এই বাঁদরটারে বিয়ে করছি।
- তুমি না দেখতে হেব্বি হুমমমম সত্যি,হি হি
খালি পাপ্পি দিতে মন
চাইতেছে।
- ঐ কীইইই বললা ফাজিল পোলা।
- একটা কথা বলি,
- হুমমমম বলো শুনি।
- আপু আমারে একটু ভালাবাসবা, হি হি হি
- ঐ কীইইই বললি তুমি দাঁড়া একবার।
- আমি দৌড় দিছি তুবা ও দৌড়াইতেছে,
হঠাৎ আমি থেকে গেলাম তুমা সোজা
আমার বুকে এসে পড়ল
কিন্তুু কিছু বলল না।
- ঐ এবার কই যাবি হুমমমম, ভাল করে
প্রপোজ কর না হলে
খুন করে ফেলব।
- ওকে বাবা করছি, আচ্ছা তুবা
তুমি কীইইই পিকলু এর দাদি হবা
পিলিজ।
- ঐ এইটা কেমন কথা হুমমমম, একটা
চর দিব।
- আরে আমাদের ছেলের ছেলে হলে ওর
নাম পিকলু রাখব বুঝলা।
- এই এবার যদি বাঁদরামি করিস
আমি আর কথাই বলব না।
- এবার সোজা তুবার হাত
ধরে বললা, তোমার বাঁদরটাকে প্রতিদিন
একটা করে পাপ্পি দেওয়ার অধিকার
দিবা।
খুব ভালবাসব তোমাই, একটু মাথাটা টিপে
দিবা।
- হুমমমম পিচ্চি বাবুটা আমার দিব তো।
- হি হি আচ্ছা এবার চলো বাসাই যাই।
- আবার সেই একি ভাবে পাঁচিল টপকে রুমে
গিয়ে দেখি,
সবাই আমার রুমে বসে আছে,
আমাদের এমন ভাবে দেখছে যেন
আমরা দুই জন সার্কাস দলের।
- হঠাৎ ঠাসসসসসস আমার গালে,
ঐই তুই কীইইই মানুষ হবি না বাসর
ঘরে ও বাঁদরামি, কান ধর, আরো যে যা পারে
বকা দিয়ে চলে গেল, তুবা শুধু হাঁসছে।
আব্বা ও চলে গেল।
তুবা দরজা লেগে দিয়ে এসে একদম
হেঁসে হেঁসে শেষ।
- ঐ হাঁসবা না বুঝলা,
কত্ত জোরে চরটা লাগছে ওহহহহহ।
- তাই বুঝি বাবু, এগো একটু আদর করে দিই
কেমন, বলেই পাপ্পি দিল।
প্রতিদিন এমন পাপ্পি দিও কেমন।
- ঠিক আছে প্রতিদিন এমন পাপ্পি খেও
কেমন, হি হি হি।।
ওর হাঁসি মুখে আমি ও একটা পাপ্পি দিলাম
, আমিও কিছু কম যাই না তো হি হি।
মনে হয় বাসর রাত শুরু হয়ে গেল।
ঐ আপনারা কিন্তুু চোখ মুইজা থাকবেন
কেমন হি হি হি।।।।।।।
>>সমাপ্ত<<
<<The End<<

লুপুতুপু লাফস্টরি




প্রতিদিন সকালে দৌড়ানোর মজাই
আলাদা, আহা কীইইই সুন্দর
ঠান্ডা লাগতেছে।
একটা বাড়ির নিচে যেতেই
উপর থেকে কে যেন পানি দিছে।
মিজাজটা কেমন লাগে, এমনিতেই
ঠান্ডা লাগতেছে তার উপরে গেয়ে পানি।
উপরে তাঁকিয়ে কাউরে দেখতে পাইনি,
মনে হয় ভুল করে ফেলে দিছে।
তারপরে বাসাই গিয়ে ফ্রেস হয়ে
সোজা কলেজে।
কলেজে যেই না গেছি ওমনি
সালা নাফিজ ফইন্নির আগমন।
ওই সালা আবার একটু মাইয়াগো
মতন, খালি আমার গায়ের উপড়ে
আইসা পড়ে।
না সময় থাকতে কাইটা পড়ি, না হলে
পড়ে পিছন ছাড়বে না।
এক বিপদ থেকে রেহাই পাওয়ার
জন্য দৌড় দিছি ওমনি সোজা
গিয়ে ধাক্কা একটা মেয়ের সাথে।
আমি এক দিকে মেয়েটা এক দিকে,
মেয়েটার দিকে তাকাইতেই আমি
পুরা ফিদা।
এত্ত সুন্দর কোন মেয়ে হয় নাকি,
আমি তো আবাল এর মতো
হা করে আছি।
মনে মনে তো ভেঁবে নিছি মরলে ও
তাঁকে আমার চাই বাঁচলে ও চাই।
মেয়েটা উঠে আসল আমার দিকে,
এই রে মনে হয় ঠাসসসসসস করে
দিয়ে চলে যাবে।
তাই আগে ভাগেই দুই গালে
হাত দিয়ে বসে আছি।
কিন্তুু না মেয়েটা একদম অন্য রকম
আমার দিকে একটু তাঁকাই থেকে
চলে গেল।
আশেপাশের পোলাপান দেখি সবাই
হা করে আছে।
কই থেকে সজিব এসে আমারে বলল।
- সাহরিয়া ভাই আমার কলেজে নতুন একটু
মেয়ে আসছে, সেই রকমের সু্ন্দরী, আমাদের
সাথেই পড়ে।
ওর দিকে যেন ভুলে ও নজর দিস না।
- রাখ তোর সুন্দরি আমি তো একটু আগে
একটা পরীর সাথে ধাক্কা খাইছিরে।
মেয়েটা আমার সব চুরি করে ফেলছেরে ভাই,
কী রকম দেখতে আহা, যেন বুকটা চিরে
ভিতরে রাইখা দেই।
- কীইইই বললি, আচ্ছা মেয়েটা কী সাদা
ড্রেস পড়েছিল।
- হুমমমম, পরীরা তো সাদা ড্রেসই পড়বে
সেইটা আবার নতুন কীইইই।
- ওরে ছাইরা দে ভাই, মেয়েটা কে জানিস।
- হি হি কেবল মাত্র ধাক্কা খাইছি কেমনে
জানমু।
- সালা হারামি মেয়েটা আমাদের এমপি এর
মেয়ে, ওর বাপে যদি জানে তোরে পিছ পিছ
করে ফেলবে।
- কীইইই বললি, ঐ কসাই এর মতো
লোকটা।
- হুমমমম।
- আল্লাহ দিলা দিলা ওমন কসাই এর
ঘরেই ওমন একটা পরীর মতে মেয়ে দিলা, আবার
আমার সাথেই ধাক্কা লাগাই দিলা।
দোস্ত যাই বল ওই মেয়েটাই আমার
লাগব।
না হলে আমি মইরা যামু।
- যা পারিস কর আমি কিছু যানি না,
ভাই তোর পায়ে পড়ি আমার সাথে আর
কথা বলবি না, তা হলে
তোর সাথে আমি ও মরমু।
- দূর সালা কিচ্ছু হবে না চল ক্লাসে যাই।
যে না ক্লাসে গেছি ওমনি কয়টা দানবের
মতো পোলা আসল, আর মেয়েটার কাছে
গিয়ে বলল ম্যাডাম একবার শুধু পোলাটারে
দেখাই দেন কে আপনারে ধারে দিছে।
আমি তখন মেয়েটার সামনেই ছিলাম,
মেয়েটা একটু আমার দিকে তাঁকিয়ে বলল
ছেলেটাকে আমি চিনিনা , আর ছেলেটার
কোন দোষ নাই।
আমি একটা ইটের সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে
গেছি।
আচ্ছা ম্যাডাম আমরা তা হলে আসি কোন
সমস্য হলে আমরা আছি।
বলেই চলে গেল।
- যাক বাবা এবারের মতো বাঁচলাম, যে
এক একটার সাইজ ছিল আমারে
একজন একজন করে ঘুসি দিলে
আমি সোজা পোটল ভর্তা হয়ে যেতাম।
তারপরে ব্রেঞ্চে গিয়ে বসতেই স্যার আসল,
এর মধ্যে মেয়েটার দিকে কয়েক বার
তাঁকাইছি।
কীইইই মিষ্টি চেহারা।
ক্লাস শেষ করে বাইরে চলে আসলাম
দেখি মেয়েটা একাই বসে আছে।
মনে হয় ওর বাবার ভয়ে কেউ মেয়েটার
সাথে কথা বলে না।
কিন্তুু সাহরিয়া না মেয়েটার মুখে
হাঁসি ফোটানোর দায়িত্ব তোর।
যেই ভাবা সেই কাজ।
দৌড়ে মেয়েটার কাছে গিয়ে
বসলাম, আমাকে দেখে
অনেক অবাক হয়েছে।
- হি হি আমি সাহরিয়া,
আমি আর তুমি সেইম ক্লাস
তাই তুমি করে বলছি কেমন,
তুমি ও তুমি করেই বলবা, কারণ
কেউ আমাকে আপনি বললে
আমার কেমন লইজ্জা লাগে।
আর হ্যা তখন ঐ দানব দের
হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অনেক
গুলা থাংকু,
হায় হায় কথা মাঝে মেয়েটার নাক ধরে
টান দিছি।
এইরে সরি সরি আমি না বুঝতে
পারি নাই পিচ্চি তো তাই।
কাউরে বইল না যেন কেমন,
আমার মতো একটা পিচ্চি বাবুরে
কেউ মারলে তোমার ভাল লাগবে বলো।
এবার মেয়েটা একটু মুচকি হাঁসি দিল।
একটু হাঁসিতেই এমন সু্ন্দর লাগছে
পুরোপুরি হাঁসলে তো আমি পাগল হয়ে
যামু।
- আচ্চা এমন তারাতারি সব কথা বলছ কেন (মেয়েটা)।
- আরে তোমার বাবার ঐ গুন্ডা গুলো যদি
চলে আসে তাই।
ঐ তোমার নামটাই তো বললা না।
- আমার নাম লিপা।
- হি হি অনেক কিউট নাম তো,
আচ্ছা তুমি এমন গোমরা মুখে থাক
কেন, জোরে জোরে হাঁসবা কেমন।
এই যে এভাবে হা হা হা হি হি হি।
- তুমি তো অনেক ফাজিল, আজ
পর্যন্ত কোন ছেলে আমার সাথে এত্ত কথা
বলার সাহস পায় নাই জানো।
- সবাই আমার মতো ভিতু না তাই,
সবাই অনেক সাহসী তো তাই
তোমার সাথে কথা বলতে ভয় পায়।
- এর মানে কী?
- এর মানে হল, মানুষ আর পিপড়ে।
মানুষ যেমন অনেক শক্তি শালী হয়ে
ও তার ওজনের দশ গুন ওজন বহন
করতে পারে না।
কিন্তুু একটা পিচ্চি পিপড়ে মানুষের
থেকে কত্ত শক্তির দিক দিয়ে কম,
তবু ও তার ওজনের দশ গুন ওজন বহন
করে। ঠিক তেমন আমি ও ভিতু কিন্তুু সাহসী
দের থেকে বেশি সাহস বহন করি হি হি হি।
- বাহ্ খুব ভালো তো।
- আচ্ছা দাঁড়াও একটু।
- কেন।
- আরে দাঁড়াও না পিলিজ।
- ঠিক আছে দাঁড়ালাম।
- এবার হাত দাও।
- আরে কেন বলবা তো।
- আগে হাত দাও না।
- ওকে দিলাম।
- ১, ২, ৩, ...... ১০ এই নাও দশটা
চকলেট, আর আমাকে দশ টাকা
দাও।
- চকলেট দেওয়ার কীইইই আছে
আমি তো এমনি টাকা দিতাম,
আরে না আমার কাছে এখন ও
অনেক চকলেট আছে।
তাই তোমার কাছে ৫০%বিক্রি করলাম হি হি।
- ঠিকআছে এই নাও টাকা।
- ঐ তুমি দুইটা শূন্য বেশি দিছে
ফেলছ।
- তা ছাড়া তো আমার কাছে ভাংতি কোন
টাকা নেই।
- ওকে ঠিক আছে প্রতিদিন তোমাকে চকলেট
দিয়ে শোধ করে দিব কেমন।
- ওকে ঠিক আছে, পাগল একটা।
- ঐ তোমার আব্বা মনে হয় আসছে
তোমাকে নিতে আমি গেলাম এবার।
বলেই দৌড়।
- ঐ সালা কই ছিলি (সজিব)।
- তোর ভাবি কাছে।
- মানে কীইইই ।
- আরে লিপার সাথে, এই দেখ দশটা
চকলেট দিছি আমারে এক হাজার টাকা
দিছে।
- সালা তুই সত্যি পারিস ও।
- হুমমমম এবার চল আরামছে
খাইয়া আসি।
তার পরে বাসাই যামু।
খেয়ে দেয়ে বাসাই আসলাস,
না না একদম ভাল লাগতেছে,
আহা খালি সুপ্তির কথাই মনে
পড়তেছে।
বিকেলে ওদের বাসার ওই দিকে গেলাম,
উপরের দিকে চাহিয়া আছি,
কখন যে একটু বাহির হইবে আল্লাহ জানে।
হঠাৎ করে যেন একটা পরী বারান্দাই আসল,
যাক তবু মনে একটু শান্তি পেলাম।
কীইইই মেয়েরে বাবা একটু নিচে
তাঁকাইলে কীইইই হইবে।
উপর দিকে হাত দিয়ে নাড়তে লাগলাম,
কখন যে একটা চিৎকার দিছি মনেই নাই।
ওই তো এবার তাঁকাইছে, কিন্তুু সুখ বেশিক্ষণ রইল না।
একটা খাম্বার মতো লোক এসে বলল।
- ঐ পোলা এখানে কীইইই করিস।
- কিছু না আংকেল একটু ব্যায়াম করতেছিলাম।
- একটা চটকানি দিমু যা ভাগ এখান
থেকে।
- লিপা তো হেঁসে হেঁসে শেষ।
যাক তবু তো হাঁসি মুখটা দেখলাম।
পরেরদিন কলেজে গিয়ে ব্রেঞ্চ বাজাইতেছি।
হঠাৎ লিপার আগমন, আশেপাশে ওর বাবার
গুন্ডা গুলো ঘুরতেছিল তাই কথা বলতে পারতেছি না।
মাথাই একটা আইডিয়া আসল,
চট করে একটা কাগজে লিখলাম
ওই গাছের নিচে এসো, তার পরে
ফট করে দিয়ে পট করে গাছের
নিচে চলে গেলাম।
একটু পড়ে লিপা ও আসল।
- কীইইই লিপা বেগম কেমন খুশি খুশি
লাগতেছে কীইইই ব্যাপার হুমমমম।
- সাহরিয়া তুমি না অনেক কিউট।
- হি হি হি কেন শুনি।
- তোমার সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকে
এমনিতেই কেমন ভাল ভাল লাগছে।
- যাক বাবা একদিনেই।
- হুমমমম মনে হচ্ছে কত
দিনের চেনা।
- ওই হইছে হইছে, এবার দাঁড়াও।
- কেন চকলেট দিবা তাই না।
- হি হি হুমমমম।
- কালকে তোমার চকলেট গুলা
সারারাত খাইছি আর তোমার কথা
ভাবছি।
- ওমা তাই বুঝি, এবার নাও হাত দাও।
- হুমমমম দাও, সাহরিয়া জানো তোমাকে
নিয়ে খালি ভয় হয়, যদি বাবা তোমাকে
মাইর দেই।
- হি হি এত্ত সোজা হুমমমম।
- হুমমমম হইছে হইছে, এত্ত সাহস
যখন গতকাল দৌড় দিলা কেন।
- আরে বাবা তাই বলে জেনে শুনে মাইর
খাব বুঝি।
এই যা আবার তোমার বাবা চলে আসছে,
এইটা আমার নাম্বার তোমার জন্য লিখে
আনছিলাস, তার পড়ে নাম্বারটা
দিয়ে চলে আসলাম।
রাতে ফোনটা নিয়ে বসে আছি,
হঠাৎ ফোনটা বেঁজে উঠল
তারাতারি ফোনটা হাতে নিয়ে
দেখি ২৮২৮ থেকে ফোন আসছে।
মেজাজটা কেমন লাগে, দূর কখন
যে পাগলিটা ফোন করবে আল্লাহ জানে।
আবার ফোন আসল, নাম্বারটা না
দেখেই রিসিভ করে বলতে লাগলাম
ঐ তোমার ফোন দিতে এত্ত টাইম লাগে
হুমমমম।
হঠাৎ আব্বার গলা,
হায় হায় কারে কীইইই বলে ফেলছি।
আল্লাহ আর কত্ত এমনে থাকমু।
এবার আবার ফোন আসর
- ফোনটা রিসিভ করলাম।
- হ্যালো।
- হি হি এইবার আসল জাইগা থেকে
আসছে।
- ঐ এতক্ষণ কীইইই করলা হুমমমম,
সেই কতক্ষণ থেকে বসে আছি।
- ও আচ্ছা তাই বুঝি, সাহরিয়া একটা
কথা বলব।
- হুমমমম বলো।
- সাহরিয়া আমি না তোমাকে অনেক অগে
থেকেই দেখতাম জনো, তুমি যখন আমাদের
বাসার নিচে দিয়ে বাঁদরের,
মতো লাফাই লাফাই যাইতে।
আর সেদিন সকালে আমিই পানি
দিছিলাম।
- কীইইই, তুমি তো আমার থেকে ও
বেশি ফাজিল, আমি একটা কথা
বলব রাগ করবা না তো।
- ঠিকআছে বলো।
- তোমারে আমি ফাস্ট যেদিন
দেখছি না, সেদিন থেকেই ঠিক করছি
বাঁচলে ও তোমারে নিয়ে মরলে ও
তোমারে নিয়েই, খুব ভালবেসে
ফেলছি জানো তোমারে।
হঠাৎ ফোনটা কেঁটে গেল,
এই যা ক্যান যে বলতে গেলাম।
নিজেই নিজেরে গালি দিলাম,
দূর ভাল লাগছে না।
পরেরদিন সকালে কলেজে গেলাম
গিয়ে দেখি লিপা আসে নাই,
নিজেরে আচ্ছা মতন বকা দিয়ে
চলে আসলাস।
বিকেলে ওদের বাসার
নিচে দাঁড়াই ছিলাম তবু কোন
দেখা মিলে নাই।
এই ভাবে পাঁচদিন পার হয়ে গেল।
হঠাৎ একদিন সকালে অনেক জোরে জোরে
দরজাই কে যানি ধাক্কা দিচ্ছে।
রেগে মেগে উঠে দরজা খুলেই দেখি
লিপা বাবার সেই দানব গুলা।
হায় হায় বলে দিছে নাকি সব কিছু,
- ভাইজন আমারে একটু সময় দেন টয়লেট
যামু, হেব্বি হিসি চাপছে।
বলেই টয়লেটে দৌড়,
টয়লেট থেকে বাহির হইতেই, ওদের
মধ্যে একজন বলল।
- সাহরিয়া।
- হুমমমম আমি, তারপরে আমারে
সবাই মিলে আলক কইরা নিয়া গেল।
আমি কিচ্ছু কইনাই, কপালে থাকলে
বাঁচমু না হলে তো আমি শেষ।
তারপড়ে একটা গাড়ি করে হাসপাতালে
নিয়ে গেল।
আর যাই হোক মনবতা আছে
বলতেই হবে।
হাসপাতালের ভিতরে হয়ত মারব,
তারপর ভর্তি করে দিয়ে যাবে।
হায় হায় এখন ও মারতেছে না ক্যান।
সামনে দেখলাম লিপা বাবা আমার
দিকে আসছে।
এসে যা বলল আমার মাথা ঘুরে পড়ে
যাবার অবস্থা।
- বাবা সাহরিয়া তুমি একমাত্র আমার
মেয়েটাকে বাঁচাতে পারে, অনেক কষ্টে
তোমাকে খুঁজে পেয়েছি।
- মানে আংকেল লিপা কই।
- ঐ রুমে।
- দৌড়ে রুমে গেলাম, দেখি
আমার পরীটা একদম শুকাই গেছে।
চোখটা কেমন ঝাপসা হয়ে আসছে,
পরীটার কাছে গিয়ে বসলাম।
ওর হাতটা শক্ত করে ধরে বললাম,
আমি আসছি তো রে পাগলি, আমাকে
ছেরে একাই যাবা তাই না, তোমাকে
ছাড়া কেমনে আমি বাঁচব বলো।
খুব ভালবাসিরে খুব ভালবাসি, একবার
ভালবাসি বলবা না বলো।
লিপার বাবা আসল,
আমি বললাম আংকেল লিপার কী
হয়েছে বলেন না।
- আসলে বাবা মেয়েটাকে আমি ছোট থেকে
বেশি হাঁসি খুঁশি রাখতে পারি নাই, সব
সময় টাকার পেছনে ছুঁটেছি।
আর সব সময় ও একা থাকত, কারো সাথে মিশত না, এমন করে অনেকবার অসুস্থ হয়ে পরে।
ফাস্ট ও তোমার লাফানো দেখে হেঁসেছিল।
তারপরে আমি তোমার কলেজে ওকে ভর্তি
করে দেই।
লিপা ও জানত না এ সব।
ডাক্তার বলছে ওকে সব সময় হাঁসি
খুশি রাখতে হবে।
আমি জানি একমাত্র তুমি ওকে হাঁসি
খুঁশি রাখতে পারবা।
আংকেল আপনি কিছু ভাইবেন না
পাগলিটা আমার জীবন, আমার
জীবনটারে ঠিক আমি আমার মতো
করে নিব।
আংকেল চলে গেল।
আমি আবার পাগলিটার মাথার কাছে
গেলাম, আবার প্রথম দিনের
মতো নাকটা ধরে টান দিতেই।
চোখটা খুলল।
কোন দেরি না করেই পাগলিটাকে
টেনে বুকে নিলাম।
খুব ভালবাসি পাগলি তোমাকে।
- ঐ ছাড় আব্বু আছে দেখতে পেলে মাইর দিবে।
- তোমার আব্বুই পারমিশন দিছে
হি হি হি।
ঐ সব সময় হাঁসবা আর আজ থেকে
আমার অনেক ঘুরব বুঝলা।
এখন একটা পাপ্পি দেই।
- হুমমমম দাও।
উমমমমমমমমমমমমম্মা হি হি।
এখন ও তো আমি ব্রাস করি নাই।
- কীইইই বললা ফাজিল একটা।
- আরে কীইইই করব তোমার
বাবার দানব গুলা আমারে ঠিক মতো
হিসি ও করতে দেই নাই।
- কী বললা হি হি হি হি।
আমি পাগলিটার হাঁসি দেখছি, আর
ভাবছি সারাটা জীবন এমন ভাবেই
হাঁসাবো তোমারে পাগলি আমার।।।
- যাও এবার হিসি করে এসো।।
হা হা হা হা।।।।।
>>সমাপ্ত<<
>>The End<<

ক্রাস ম্যাডাম


- ক্লাসে বসে বসে সবাই আড্ডাদিচ্ছে, এখন ও বড় শয়তানটা
আসে নাই।
- ঐ তো হারামিটা চলে আসছে (রাজু)।
- মাাাাম্মাাাা আমি কামিং,
দুই হাত ছড়াইয়া মাত্র দৌড় দিছি
ওমনি কারো সাথে মনে হয় ধাক্কা
খাইলাম, চোখটা সামনে যাইতেই
আমার চোখ পুরা পিছনে ঘুইরা গেছে।
একটা মেয়ে তেমন সুন্দরী না কিন্তুু
দেখলে যে কোন পোলা ক্রাস খাবে।
আমি আর কম কী চটপট ফ্রি ফ্রি
ক্রাস খেয়ে ফেলেছি, ক্রাসই একমাত্র
খাবার যেটা খাইতে কোন টাকা লাগে
না।
আব্বা কইছে ফ্রি জিনিস বেশি বেশি
খাবি, না হলে পরে পুস্তাবি।
- হাই..তোমার নাম কীইইইই, আমি
সাহরিয়া।
ওমা মেয়ে তো রেগে উঠে গেলে,
ওরে বাবা আবার চশমা ও পরে।
সুন্দরী না তবে কিউট এর ডিব্বা,
শাড়ি পড়ে আছে আরো ফাটাফাটি
লাগততেছে, কেমন উঠে হন হন করে
চলে গেল।
- ঐ হারামি ঐটা কে জানিস (রাজু)।
- একটা লাত্তি দিমু সালা, জানলে কী
এতদিন সিংঙ্গেল রাখতাম, কবে
বিয়ে করে ফালাইতাম এত দিনে
তুই কাকু হইতি।
- চুপ সালা ঐটা আমাদের ইংলিশ
এর ম্যাডাম।
- কীইইইই আগে বলবি না সালা কু্ত্তা।
- আরে কালকেই জয়েন্ট করছে, কেন
কিছু বলছিস নাকি।
- দূর না খালি নাম শুনতে চাইছি,
আর ফ্রিতে আমার নাম বলছি।
আর যাই বলিস ভাই
মেয়েটা আমার এই খান টা নড়াই
দিয়ে গেছে।
- চুপ সালা ওটা তোর ম্যাডাম লাগে।
- যাই হোক মেয়ে তো নাকি,
চল এখন ক্লাসে যাই।



লুপুতুপু লাফস্টরি


হায় হায় আজকে তো প্রথমেই ইংলিশ
ক্লাস আছে আমারে সিওর আজ আপমান
করবে।
একটু পরে আমার ক্রাস আসল মানে
আমাদের ম্যাডাম।
এসেই ইংরেজি তে ফটরফটর করে
যাচ্ছে, সব আমার মাথার চুলের উপর
দিয়ে যাচ্ছে।
- হেই হউ, এই যে তুমি দাঁড়াও।
- দাঁড়াই গেছি, সাহরিয়া অপমান হওয়ার
জন্য প্রস্তুত হয়ে যা ভাই।
- কী নাম তোমার।
- সাহরিয়া.. তার পরে ইংরেজি তে
কী না কী বলল আমি তো খালি
হা করে আছি।
- আচ্ছা তুমি পড়ালেখা করতে
এখানে এসেছ নাকি শুধু বাবা
মার টাকা নষ্ট করতে শুনি , আর
যদি কোনদিন বাঁদরামি করো সোজা
তোমার বাড়িতে কমপ্লেন করব।
সো এখন থেকে ভাল হয়ে থাকবা।
- হুমমমমমম ঠিকআছে।
- বসো এখন।
- এর পরে ক্লাস শেষ এখন কলেজ ছুটি
দিবে, না না যাই বলুন আমি ভালা হওয়ার
পোলা না, ম্যাডাম ম্যাডাম ম্যাডাম।
- এই ছেলে এত চিল্লাও কেন।
- ম্যাডাম তখন এর জন্য অনেক
গুলা সরি, একটা কথা বলতে পারি কী।
- হুমমমমম বলো।
- আচ্ছা ম্যাডাম আপনি আমার থেকে
কত দিনের বড়, প্লিজ ম্যাডাম বলেন না
প্লিজ।
- আমি তো স্টাডি শেষ হওয়া মাত্র জব
পাইছি, এই ধরো চার বছর।
- ও আচ্ছা মাত্র, তাহলে কোন ব্যাপার না।
- ঐ কী বলো।
- না না কিছু না ম্যাডাম, আর একটা
কথা বলি প্লিজ।
- হুমমমমমম বলো।
- ম্যাডাম আপনাকে না দেখতে আমার
হেব্বি লাগে হি হি, বলে দিছি দৌড়
কলেজ চার দিন ছুঁটি এর মধ্যে সব
ভুলে যাবে।




বাসাই এসে মা ও মা মা কই গেলে।
- এত্ত চিল্লাচিল্লি করছিস কেন শুনি।
- জানো মা আজকে না আমাদের
কলেজে একটা নতুন ম্যাডাম এসেছে,
সুন্দরী না তবে দেখতে অনেক ভাল,
আমি তো প্রথম দিনই ধাক্কা লেগে
গেছি আর প্রথম দেখাই.......... ।
- প্রেমে পড়ে গেছিস তাই তো।
- হুমমমমমম, বাবাকে যেন বল না
কেমন তাহলে আমাকে হেব্বি প্যাদানি
দিবে।
- হ্যারে শোন, আমাদের উপড়ের তলায়
নতুন ভাড়া এসেছে, তাদের একটা মেয়ে আছে
নতুন নাকি জব পেয়েছে কজেল টিচার্স।
মেয়েটা ও দেখতে ভালই।
- দূর আমার পরীটার কাছে পাত্তাই পাবে না।
- হুমমমমমম এখন রুমে যা আমার হাতে
অনেক কাজ।
- রুমে গিয়ে ম্যাডাম কে ভাবতে ভাবতে
ঘুমাই গেছি, মার ডাকে
ঘুম ভাঙ্গল।
- সাহরিয়া ওঠ তারাতারি আর কত ঘুমাবি,
উপরের তলার আন্টিরা এসেছে দেখ।
- এত্ত সকালে কেন ডাকছ মা, চোখ ডলতে
ডলতে মাত্র রুম থেকে বাইরে আসছি,
ওমনি দেখি মা আর উপরের তলার আন্টির
সাথে বসে আছে আমার ক্রাস মানে
ম্যাডাম।
- ঐ গাধা এখন সকাল না সন্ধা বুঝলি, যা ফ্রেস
হয়ে আয়।
- তার পরে ফ্রেস হয়ে আসলাম।
- ঐ টা তোর আন্টি, আর এটা হলো তোর
অধরা আপু সবাইকে সালাম দে।
- হুমমমমমম, আস্ সালামুয়ালাই কুম।
আহা পরীটার নাম ও জেনে গেলাম অধরা
আহা কী সুন্দর নাম।
- মা একটা কথা বলার ছিল।
- হুমমমমমম বল।
- আমি তো একদম ইংলিশ পারি না ,
তাই একটা স্যার দরকার।
- আরে অধরাই তো ইংলিশ এর টিচার্স
তুমি ওর কাছেই পড়তে এসো (আন্টি)।
- মনে মনে তো আমি আনন্দে চৌদ্দ খানা।
যাক টোপ টা কাজে লাগল।
- আন্টি আপু যদি আজকে থেকেই একটু
শিখাই দিত তাহলে একটু ভাল হত।
- হুমমমমমম ঠিকআছে।
- ওরে বাবা অধরা আপু মানে ম্যাডাম তো
রেগে শেষ, কিন্তুু কিছু বলতে পাড়তেছে
না।
- অধরা মা তুই একটু সাহরিয়াকে ইংলিশ শিখাই
দিয়ে আয়, আমি আর তোর আন্টি এখানে
বসে গল্প করি একটু।
- ঐ গাধা অধরা কে নিয়ে যা ।
- আপু এসো ঐ সামনের টা আমার রুম।
রুমে ঢুকেই।
- সরি আপু না না ম্যাডাম।
- চুপ বেয়াদব, এইটা তোমার রুম।
- হুমমমমমম।
- ছি এত্ত অগোছালো কেন।
- তোমার মতো বউ নেই তো তাই।
- ঐ কীইইইই বললা।
- না না কিছু না।
- ওয়াও রুবিক্স কিউব, তুমি মিলাতে
পারো ।
- হুমমমমমম, দেখ মিলাই দিতেছি।
- বাহ্ এত্ত তারাতারি কেমননে সম্ভব।
- তুমি যেমন না না আপনি যেমন
ইংলিশ বলেন তেমন করে।
- আমাকে শিখাবা।
- হুমমমমমম কুন্তুু আমার একটা শর্ত
আছে।
- কীইইইই।
- আমি আপনি বলতে পারব না
তুমি করে বলব ।
একটু কী জানি ভাবল।
- ওকে ঠিকআছে কিন্তুু কলেজে সবার
সামনে তুমি বলতে পারবা না।
- আচ্ছা।
- তাহলে এখন শিখাও।
- হুমমমমমম দেখ এমন ভাবে প্রথমে
দুই স্টেপ ট্রাই করো আজকে রাতে।
কালকে পুরোটা শিখাব।
- আমার তো রুবিক্স কিউব নাই।
- আরে আমার এটাই আজকে থেকে
তোমার নাও।
- আচ্ছা এখন বই বের করো।
- আজকে না কালকে কেমন।
- চুপ বেয়াদব কিছু বলছি না তাই,
বই বের করো।
তার পরে সেদিন এর মতো আমার
ম্যাডাম পরীটা চলে গেল।
- মা এটাই তো সেই ম্যাডাম।
- কীইইইই বলছিস।
- হুমমমমম, দেখছ কেমন পটাই
ফেলছি, দেখবা কালকে সকালে
কেমন নিজেই আমাকে
ডাকতে চলে আসবে।
- কেন ডাকতে আসবে
শুনি।
- আরে রুবিক্স কিউব এর নেশা
ধরাই দিছি না হি হি।
- চুপ শয়তান একটা।
- আর যাই বলো মা, মেয়াটা আমার বউ
হলে বেশ লাগবে হুমমমমম।
- ঐ তোর কোন লজ্জা সরম নেই হুমমমমমম।
- ছিল হয়তো তোর পেঁট থেকে নিয়ে আসতে
ভুলে গেছি।
- যা এখন খেতে আয়।
সেদিনের মতো খেয়ে দেখে, ম্যাডাম আপুর
কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমাই গেলাম।
সকাল বেলা আপুর গলা শুনতে,
মনে হয় কালকের কথাটা কাজে লেগেছে।
তাই তারাতারি কপাল ঘুসে ঘুসে
গরম করলাম যাতে কপালে হাত দিয়ে
ভাবে জ্বর আসছে।
হঠাৎ আমার রুমে আসল, আমি চোখ
বন্ধ করে আছি।
- সাহরিয়া ঐ সাহরিয়া তারাতারি ওঠ
অর্ধেক মিলানো শিখে গেছি।
সাহরিয়া কী হল, বলেই মাথাই
হাত দিল, ঐ তোমার তো জ্বর আসছে।
- আন্টি আন্টি।
- ঐ থামো থামো মাকে ডাকছ কেন,
তোমাকে তো একটু বোকা বানালাম হি হি।
- শয়তান পোলা, দেখ এইটু তো শিখে গেছি
এখন কী করব।
- আচ্ছা দাঁড়াও কয়টা টেকনিক বলব
আর তুমি ঘুরাবা কেমন।
- হুমমমমমম।
- এখন চোখ বন্ধ করো, একবার ও খুলবানা
কেমন।
- হুমমমমমম।
- এবার কাছে আসো, আমি ওর হাত ধরে ধরে
ঘুরাচ্ছিলাম, মনে হচ্ছিল সারা জীবন
ওমন ভাবে ঘুরাই।
এবার চোখ খুলো।
- ওয়াও সব দিক মিলে গেছে, আমাকে ও শিখাও না প্লিজ।
- ওকে তুমি ছাদে যাও আমি ফ্রেস হয়ে যাচ্ছি।
এর পরে দীর্ঘ দুই ঘন্টা একি হারে বুঝানোর পর
ঠিকঠাক মিলাতে পাড়ল।
আমার মাথা পুরাই শেষ,
যদি অন্য কেউ বলত ভাই আমাকে
এমন করে শিখান বিনিময়ে ১০০০
টাকা দিমু, মাফ চাই ভাই আমি
তোরে ১০ টাকা দিচ্ছি ভাড়া দিয়া বাড়ি
যা।
কিন্তুু মিলানো শিখানোর পর যে ও কত্ত
খুশি, ফ্রিতে একটা পাপ্পি ও পেয়ে গেছি।
এর পর থেকে আমরা আরো ফ্রি,
কলেজ ছুটি তাই সব সময় পড়া লেখা
আর বিকেলে বেড়াতে যাওয়া, আমার
ফেভারিট জায়গা নদীর পারে।
- ও কী মনে মনে ভাবত আমি
জানি না, একদিন জিজ্ঞেস করছিলাম
অধরা আপু তোমার 'বফ' নাই।
- আরে পড়ালেখাই এমন বিজি ছিলাম
ঐ সব এর টাইম পাই নাই।
- যাক তার মানে আমার লাইন ক্লিয়ার,
না এখন না সময় বুঝে সব কথা বলতে
হবে।
এর মধ্যে কলেজ এর ছুটি ও শেষ।
- আমি আর অধরা এক সাথে হেঁটে
যাচ্ছি কলেজে, কলেজে ঢুকতেই তো
সবাই অবাক।
যখন ক্লাসে সবার থেকে আরো ভাল
ইংলিশ পাচ্ছি তখন সবাই আরো অবাক।
ক্লাস শেষে ক্রিকেট খেলছিলাম হঠাৎ
হুরমুর করে বৃষ্টি আসল।
দৌড়ে আসতে আসতে ও মাথা ভিজে
গেছে।
গেঞ্জি দিয়ে টেনে টেনে মাথা মুছতেছি।
- ঐ সাহরিয়া এই দিকে আয়।
- হুমমমমম কীইইইই।
- এখন যদি মাথাই পানি বসে যাই
তাহলে জ্বর আসবে না হুমমমম।
বলেই শাড়ির আঁচল দিয়ে মাথা
মুছে দিতে লাগল।
মনে হচ্ছিল যে নিজের বউ হি হি।
তারপরে বাসাই চলে আসলাম
ডিসিশন ফাইনাল আজকে রাতেই
প্রপোজ করব।
রাত ৭ টাই ফোন করে অধরা আপু
ম্যাডাম কে ছাদে আসতে
বললাম।
- হুমমমমম কীইইইই বলবি শুনি।
- সোজাসুজি বলে দিলাম আমি
তোমাকে ভালবাসি।
ওমনি ঠাসসসসসসসসস।
- ছি সাহরিয়া তুই এতটা নিচ আমি
জানতাম না, এইটা তুই কেমনে ভাবলি ছি।
আমার চোখের সামনে আর আসবি না।
বলে চলে গেল।
সত্যিই আজকে খারাপ লাগছে ,
যাকে এত্ত ভাল বাসলাম সেই
এমন বইলা চলে গেল।
মাকে ও কিছু বলি নাই খেয়ে দেয়ে
শুয়ে আছি।
কখন ঘুমাই গেছি যানি না।
- সাহরিয়া ওঠ কলেজে যাবি না।
- না মা আজকে ভাল লাগছে না,
তুমি যাও আমি উঠতেছি।
- হুমমমমম তারাতারি খেতে আয়।
- খেয়ে দেয়ে নদীর পারে গিয়ে একা একা
বসে আছি। একটু সাইটে তাঁকাই দেখি
অধরা ম্যাডাম আপু আসতেছে।
ওখান থেকে উঠে বাসাই চলে আসলাস,
আম্মু আর আমি লুডু খেলতেছি
হঠাৎ অধরা আসল।
একা একাই ফোনের রিংটোন টা চালু করে
দিলাম,
- মা রাজু ফোন করেছে আমি বাইরে
গেলাম।
এই বলে বাইরে চলে আসলাম,
একদম সন্ধাই বাসাই আসলাম,
- সাহরিয়া শোন তোর সাথে আমার
কথা আছে (মা)।
- হুমমমমম বলো।
- তুই আর অধরার সাথে কথা বলিস না কেন।
- এমনি।
- আমি সব জানি, রাতে তোকে
ছাদে যেতে বলেছে।
- আমি কেন ছাদে যাব, আমাকে
চোখের সামনে যেতে বারণ করবে,
আবার আমি কেন যাব।
বলে রুমে চলে আসলাম।
কিন্তুু বেহায়া মনটা যে আর মানতেছে
না,
তাই ছাঁদে চলে গেলাম, গিয়ে
দেখি ম্যাডাম আপু আমার আগে থেকেই
দাঁড়াই আছে।
- কীইইইই বলবেন বলেন।
ওমনি দৌড়ে এসে আমাকে জরাই
ধরে কেঁদে দিছে,
- সাহরিয়া অনেক গুলা সরি, আমি
তোমাকা ছাড়া থাকতে পারব না জানো।
- তাহলে ওমন করে বলছিলে কেন।
- এমনি।
- এখন তা হলে পাপ্পি দাও অনেক গুলা।
- চুপ শয়তান একটা।
- দাও না প্লিজ।
- আচ্ছা এই নাও দিলাম।
তার পরে অধরার হাত ধরে
রুমে নিয়ে গেলাম।
মা ও মা এই দেখ তোমার
মিষ্টি বউ মাকে নিয়ে আসছি।
এখন আর একটা পাপ্পি দাও
না।।।।। হি হি হি।।।।
>>সমাপ্ত<<
>>The End<<

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০

এক নির্জন বিকালের গল্প

এক বিকালের গল্প
---কি ব্যাপার! আজো আপনি এখানে?
---জানেন তো। সময় বদলে গেলেও প্রিয় অভ্যাসগুলো আগের মতোই রয়ে যায়।////
---তার মানে আপনি প্রতিদিনই এখানে আসেন। তাই তো?/////
---জ্বি!//
---পার্কে তো আরো অনেক বেঞ্চ রয়েছে। কিন্তু আপনি শুধু এই বেঞ্চটাতে বসেন কেন ?//
---বিকাল বেলাটা আমার কাছে খুবই প্রিয় একটা মুহূর্ত। এখানে এসে চোখ দুটো বন্ধ করে অনুভূতির কান দিয়ে কারো পায়ের শব্দ অনুভব করি। পার্কের এই জায়গাটা কিন্তু একটু নির্জন। তাই না?////

---হুমম। সেই জন্য তো আপনাকে জিজ্ঞেস করলাম এতো বেঞ্চ থাকতে এই নির্জন জায়গায় এসে কেন বসেন? মানুষের ভিড়ের মাঝে আপনার থাকতে ভালো লাগেনা?
---একা থাকতে খুব ভালোবাসি।অভ্যাসহয়ে গেছে। দেখুন না আপনি ছাড়া কিন্তু এখানে আমার সাথে অন্য কেউ কথা বলতে আসেনি। আমি কিন্তু তাতে একটু মন খারাপ বা কখনো নিঃসঙ্গ অনুভব করিনি।//

---সত্যি বলতে আপনার সাথে কথা বলতে ভালোই লাগছে। আপনার কথাগুলোর শুনতে খুবই ভালো লাগে। আচ্ছা আপনি মুখটাকে সবসময় গম্ভীর করে রাখেন কেন? আপনি যদি হেসে কথা বলতেন তাহলে আরো ভালো লাগতো আপনাকে।
---সব হাসিই কি লোক চক্ষুতে ধরা দিতে হবে? সব কষ্টেই কি চোখের জলে সেই কষ্টটার প্রমাণ মেলাতে হবে?
হৃদয়ের মাঝেও তো হাসির বাণ বয়ে যেতে পারে। নেমে আসতে পারে অশ্রুর ঝর্ণা।
সেটা দৃষ্টিগোচর হওয়া কি খুব জরুরি?
---বাহ্! আপনি তো কবিদের মতো করে কথা বলেন দেখছি। আপনি কি কবিতা লিখেন?
---একসময় শব্দের মায়াজালে মনের কথাগুলো দিয়ে প্রতিটি পাতায় অনুভূতিতে ছেয়ে দিতাম। কিন্তু এখন সব এলোমেলো লাগে।
---কেন? আমাকে কি বলা যেতে পারে?
একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে
---এক কাপ কফি হয়ে যাক!
--হুমম। মন্দ হয়না। চলুন হাটতে হাটতে আপনার কথা শুনা যাক।
---আপনার অনেক ধৈর্য আছে বলতে হবে।
---কেন?
---এই যে, আমার সাথে বসে আমার বকবকানি শুনছেন।
---আরে নাহ্। আপনার কথাগুলো শুনতে আমার খুবই ভালো লাগছে। আজকের বিকালটা আমার কাছে অনেক অনেক ভালো লাগছে।
---জানেন আমাদের ভালো লাগার,ভালোবাসার জিনিসগুলোকে আমরা সবসময় আঁকড়ে ধরে রাখতে পারিনা।অদৃশ্য বুলেটের আঘাতে কোনো একসময় সব ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আর আস্তে আস্তে একাকীত্বের চারদেয়ালে আমরা বন্ধিভাবে জীবন কাটায়।
---আপনার কথাগুলো খুবই রহস্যময়।
---আমরা প্রতিটি মানুষই একটা জটিল ধাধায় বেড়ে উঠি। সেখানে আমাদের কথাগুলো তো খুবই সাধারণ কিছু শব্দের বন্ধনে আবদ্ধ। আমাদের চিন্তাধারাই সেগুলোকে রহস্যময় করে তুলে।
---হুম! সেটা অবশ্য ঠিক বলেছেন।
---চলুন কফি খাওয়া যাক।
---ও! হ্যা চলুন।
কিছুক্ষণ পর.....
---আমি কিন্তু আপনার কথার প্রেমে পড়ে গেছি।আপনি সত্যিই খুব সুন্দরভাবে কথা বলেন।
---আর কিছুক্ষণ আমার সাথে থাকুন,আমার প্রেমে পড়ে যাবেন। সত্যি বলতে কাউকে ভালো লাগা যখন শুরু হয়,তাকে ভালোবাসার হৃদয়ে একটা জায়গা আপনাআপনি সৃষ্টি হয়। শুধু অপেক্ষা থাকে কিছু অনুভূতির, প্রত্যাশা থাকে সঠিক সময়ের।
---হঠাৎ করে পাওয়া জিনিসগুলো খুব সহজেই মনের অজান্তেই হারিয়ে যায়। সেটা জানেন তো?
---পাওয়ার আগেই যদি সংশয় মনে থাকে তাহলে সেটা কাছে টেনে নিয়ে হারানোর ভয়ে কেন হৃদয় অস্থির হয়ে উঠবে?
কি প্রয়োজন ক্ষনিকের তরে কাউকে আপন করার?
---সারাজীবন পাশে থাকতে পারবেন তারই বা কি নিশ্চয়তা আছে? যতক্ষণ বেঁচে আছেন ততক্ষণ তো সেই মানুষটার পাশে থাকা যায়। নিজের মতো করে ভালোবাসা যায়। রাখা যায়না কি বিশ্বস্ততা দুটি হাত,যেখানে এসে সব দু:খ-কষ্ট বিলীন হয়ে যায়।
---খামখেয়ালি মনে ভালোবাসাই বা থাকে কি করে? প্রতিটি মুহূর্তে যেখানে নিঃশ্বাসের দ্বার বন্ধ হয়ে আসে।
---আচ্ছা যদি বলি আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি তাহলে কি আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিবেন?
---সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আমাকে বাসায় ফিরতে হবে। আর আকাশটাও কালোমেঘে ঢেকে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি হতে পারে।চলুন যাওয়া যাক।
---আপনি কিন্তু কথাটাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন।আসলে আপনার মুখোমুখি উত্তর দেওয়ার সাহস নেই। তাই চলে যেতে চাইছেন।
---সময়টা এখন খুবই বেমানান।প্রশ্নগুলোকে ফ্রেমে বন্ধি করে রাখাই ভালো।হয়তো কোনো অসময়ে একটিবারের জন্য আবারো স্মৃতিতে ফিরে আসা যাবে।
---আপনি আসলে যতোটা রহস্যময় ঠিক ততোটাই ভিতুর ডিম।
---নিজের ভিতর লুকিয়ে থাকা সত্তাটাকে মাঝেমাঝে লুকিয়ে রাখা খুব বড় অন্যায় নয়।
এখন আর থাকা সম্ভব হচ্ছেনা। আমাকে যে এবার যেতেই হবে।বাই।
--উহু...বাই না বলুন আসি। বিদায়ের মুহূর্তগুলো খুব যন্ত্রণাদায়ক। আরঅপেক্ষা সেটা তো চিরন্তন। চাইলে এসে হাতের মুঠোতে ধরা দেয়।
আচ্ছা আবার কবে দেখা ?
---হয়তো কাল বা পরশু, হয়তো কোনো একদিন।
---অপেক্ষায় থাকবো কিন্ত। আসবেন তো?
---কথা দিতে পারছি না। তবে অভ্যাসগুলো তো সহজে বদলানো যায়না।
ভালো থাকবেন..
---আপনিও ভালো থাকবেন
আর নিজের খেয়াল রাখবেন।/////
---------
পথদুটো আলাদা হয়ে গেছে। বদলে গেছে গন্তব্য। হয়তো শেষটায় গিয়ে সন্ধি হবে।যেখান থেকে শেষটার শুরু।////////


/
/

"নিঃস্বার্থ ভালোবাসা"

"নিঃস্বার্থ ভালোবাসা"


ডাইরী থেকে সাদা কাগজটা ছিঁড়ে কলম দিয়ে বেশ বড় বড় অক্ষরে সুন্দর করে "আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়" লিখে ফেললো অদ্রি। কাগজটা ভাজ করে টেবিলের উপরে রাখা গ্লাসের নিচে রেখে দিলো সে।
হ্যাঁ... প্রস্তুতি মোটামুটি শেষ, এবার নতুন ব্লেডটা খোলার পালা।
নতুন চকচকে ব্লেডটা দেখছে আর ভাবছে একটু পরই হাতের শিরা কাটবে সে এ ব্লেড দিয়ে। কি মনে করে ব্লেডটা টেবিলের উপর রেখে জানালা দিয়ে শেষবারের মত জোছনা দেখতে লাগলো অদ্রি। আনমনে ফিরে গেলো পুরোনো স্মৃতিতে।
অরণ্যের সাথে প্রথম দেখা হয়েছিলো ভার্সিটিতে। প্রথম প্রথম অরণ্যকে ভালো না লাগলেও অরণ্য ছিল খুব নাছোড়বান্দা ছেলে। সে তার পাগলামো দিয়ে ঠিকই অদ্রির মন জয় করে নিয়েছিলো। তারপর শুরু হলো এ জুটির সম্পর্ক। ভার্সিটিতে এ জুটির সুনামের কোনো কমতি ছিলো না। এভাবে দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটি আর একটু ঝগড়া নিয়েই চলছিলো তাদের দিনগুলো।
দেখতে দেখতে তিনটি বসন্ত একে অপরের হাত ধরে যে কিভাবে কাটিয়ে দিয়েছে তারা নিজেরাও জানতো না। কিন্তু অরণ্য হঠাৎ করেই কেমন জানি বদলে যেতে লাগলো। যে অরণ্য অদ্রির সাথে ফোনে কথা বলার জন্য অপেক্ষায় থাকতো, আজকাল তাকে কল দিলেই ওয়েটিংয়ে পায় অদ্রি। প্রথম প্রথম বিষয়টা সিরিয়াসলি না নিলেও একসময় অদ্রি খুব কষ্ট পেতো অরণ্যের ব্যবহারে। অরণ্য বলতে গেলে যোগাযোগই বন্ধ করে দেয় অদ্রির সাথে। আর এ যোগাযোগের চির সমাপ্তি হয় আজকে বিকেলে....
-অরণ্য তুমি এমন হয়ে গেলে কেন?
-এমন হয়ে গেছি মানে? কি বলতে চাও স্পষ্ট করে বলো অদ্রি।
-তুমি আমাকে অবহেলা করছো। ফোন দিলে ওয়েটিংয়ে থাকে। তুমি তো আগে এমন ছিলে না অরণ্য!
-শুনো অদ্রি সবসময় মানুষকে যে একই রকম থাকতে হবে তা তো নয়। সময় মানুষকে বদলে দেয়। সো, এখানে অপরাধ কি?
-হ্যাঁ সত্যিই তো এখানে কোনো অপরাধই নেই!
-আমি আসলে তোমাকে আর সহ্য করতে পারছিনা অদ্রি। আই থিংক আমাদের রিলেশন কন্টিনিউ করা ঠিক না। সো....
-প্লিজ অরণ্য আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তুমি যেমন আছো তেমনই থাকো তারপরও প্লিজ ছেড়ে যেয়ো না প্লিজ....
-লিসেন অদ্রি, আমার পক্ষে রিলেশন কন্টিনিউ করা পসিবল না! কারণ আমি আর তোমাকে ভালোবাসি না। আই এম এক্সট্রেমলি স্যরি।
-মানে? কি বলছো এসব? মাথা ঠিক আছে তোমার?
-হ্যাঁ... কারণ ভেবে দেখলাম তোমার সাথে আমার যায় না। তাছাড়া কোথায় আমাদের ফ্যামিলি আর কোথায়.....
- থামো অরণ্য... রিলেশন করার আগে মাথায় আসেনি এসব তোমার?
-দেখো আমি মানছি আমার ভুল ছিল বাট আমি সিরিয়াসলি আর এই পেইন নিতে পারতেছিনা।
-প্লিজ এমন করো না প্লিজ....আমি বাঁচবো না তোমায় ছাড়া অরণ্য প্লিজ!!
সেদিন অনেক অনুরোধের পরও অরণ্য ফিরে আসেনি। খুব কেঁদেছিলো অদ্রি কিন্তু লাভ হয়নি!
বাসায় আসার পর সোজা নিজের রুমে গেলো। মা অবশ্য কিছুক্ষণ ডাকলেন তাতেও সে পাত্তা দেয়নি।
সিদ্ধান্ত ফাইনাল, আজই পৃথিবীর মায়া ছাড়বে। পৃথিবীতে যে ভালোবাসার মত আর কেউ নেই। হঠাৎ মায়ের ডাকে কল্পনার জগৎ থেকে বের হলো অদ্রি। কি মনে করে ভাবলো শেষবারের মত মা-বাবার সাথে দেখা করা উচিত তার। সেই ভেবে দরজা খুলতেই মা বললো,
-দেখ তো মা ড্রেসটা তোর পছন্দ হয়েছে কিনা?
-হুম খুব হয়েছে মা।
-সেদিন মার্কেটে দেখছিলি ড্রেসটা বারবার।তখন আমার হাতেও টাকা ছিলো না তাই কিছু জমানো টাকা আর তোর বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে বাজার করতে গিয়ে কিনে আনলাম।
-তুমিও না মা কি যে করো!
-নিজের কাছে খুব খারাপ লাগে রে মা। আজ সামর্থ্য তেমন নেই বলে কিছুই কিনে দিতে পারিনা।
এমন সময় অদ্রির বাবা বাসায় আসলেন। হাতে মনে হচ্ছে মাছের ব্যাগ হবে।
ব্যাগটা অদ্রির মায়ের হাতে দিয়ে বললেন,
-মেয়েটা সেদিন বলেছিলো চিংড়ী মাছ খাবে। তাই ভাবলাম আজ বেতন পেয়েছি ক'টা চিংড়ী নিয়ে যাই মেয়ের জন্য। মজা করে রান্না করো তো অদ্রির মা যেমনটা অদ্রি পছন্দ করে।
অদ্রি এসব দেখছে আর চোখের পানি ফেলছে। কিছু না বলেই নিজের ঘরে এসে বালিশ চেপে খুব কান্না করলো। ঠিক এমন সময় ছোট ভাইটা এসে জিজ্ঞেস করলো,
-আপু কি হয়েছে তোর? শরীর খারাপ?
-না রে ভাই এমনি। কিছু হয়নি আমার।
-কি হয়েছে বলনা রে আপু! ও বুঝেছি আমি তোর ব্যাগ থেকে টাকা নিয়েছিলাম সেজন্য? আচ্ছা আমি কাল টিফিন না খেয়ে টাকাগুলো তোকে দিয়ে দিবো আপু। প্লিজ আর কাঁদিস না বিশ্বাস কর আর এমন করবো না।
অদ্রি আর সহ্য করতে পারলো না! হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। কান্নার শব্দ শুনে বাবা-মা ছুটে এলেন অদ্রির রুমে। অদ্রি শক্ত করে তার মাকে জড়িয়ে ধরলো।
ভাবতে লাগলো, "ভালোবাসা তো আমার ঘরেই আছে, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। আর আমি কিনা মরতে যাচ্ছিলাম এক প্রতারকের জন্য? আমি মরলে তো ওর কোনো ক্ষতি হতো না। বরং আমার বাবা-মা কষ্ট পেতো। আমি না থাকলে তারা কাকে এভাবে ভালোবাসতো।"
গ্লাসের নিচ থেকে কাগজটা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে জানালা দিয়ে ফেলে দিলো।
জোছনার আলোয় অন্ধকার ঘরটা আলোকিত হয়ে গেলো, অদ্ভুত সুন্দর লাগছে সবকিছু।
জীবন অনেক সুন্দর মনে হচ্ছে অদ্রির। কাগজের টুকরোর সাথে পুরোনো সবকিছু টুকরো টুকরো হয়ে গেলো, শুরু হলো অদ্রির জীবনের নতুন অধ্যায়।

একটি সাদামাটা প্রেমের গল্প

একটি সাদামাটা প্রেমের গল্প


-- ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি? বেছ। তোমাকেও ভালোবাসতে হবে।
-- ভালোবাসি না ভালোবাসি না ভালোবাসি না। আর কখনো ভালোবাসবো না।
-- কি বললা।
তুমি কেন আমাকে ভালোবাসবে না। আমি দেখতে খারাপ কোন দিক দিয়ে আমার কম আছে।
-- কারণ তোমাকে আমার ভালো লাগে না।
আমি যেমন মেয়ে আমার লাইফ পাটনার করে চাই তুমি তেমন না।একদম আলাদা।
-- তুমি কেমন মেয়ে চাও। কেমন করলে তুমিও আমাকে ভালোবাসবে।
-- আমি তোমাকে কখনওই ভালোবাসবো না।
-- কিন্তু কেন???
-- আমার ইচ্ছে তাই।
-- না তোমার ইচ্ছে না। তোমাকে আমাকে ভালোবাসতেই হবে।
-- না আমি তোমাকে ভালোবাসবো না।
-- ওকে আমিও দেখে নিবো। কিভাবে ভালোবাসা আদায় করতে হয় আমার খুব ভালো করে জানা আছে।
-- ওকে যা ইচ্ছে করতে পারো কিন্তু ফলাফল শূন্যই হবে।
.
.
মেঘা রাগে আগুন হয়ে চলে গেল। সাব্বিরকে অসম্ভব ভালোবাসে কিন্তু সাব্বির কোনো পাত্তাই দিতে চায় না।
কারণ মেঘা একদম অন্যরকম ছেলেদের মতো করে সে চলে। পড়ায় জিন্স, গায়ে শার্ট,মাথা ক্যাপ। তাকে দূর থেকে দেখলে একটা
ছেলেই মনে হবে।
আর এসব সাব্বির একদমই পছন্দ করে না। একটু চঞ্চল মেয়েদের এটাই সমস্যা। একটু অন্যভাবে চলে কিন্তু এদের
প্রেমেই ছেলেরা বেশি পড়ে। সাব্বিরও পড়েছে কিন্তু সে আগে মেঘাকে নিজের মনের মতো করবে তারপর বলবে নিজের ভালবাসার কথা। ভার্সিটির সামনে সাব্বির বসে আছে। তখনি একটা মেয়ের আগমন। দূরে তাই পুরাটা বুঝা যাচ্ছে না।
.
-- দোস আমার কিন্তু মেয়েটার সাথে হয়ে গেছে। (সিপন)
-- কি হয়েছে গেছে। (সাব্বির)
-- প্রেম"
-- ওহ, আমি তো ভাবছি বিয়ের আগেই বাবা হতে যাচ্ছিস।
-- উল্টা ভাবস ক্যান। কিরে মেয়েটা তো এই দিকেই আসছে
-- আসলে তো। আরে এটা মেঘা না।
-- হুম মেঘাই তো।
-- কেমন লাগছে। হুম, ঐ তুই হা করে আসিস কেন। যা এখান থেকে।(মেঘা)
-- যাচ্ছি যাচ্ছি। (সিপন)
-- হা হা হা হা হা হুমম হা হা হা হাহ হাহ ।
-- হাসো কেন? (অবাক হয়ে)
-- তোমাকে দেখে।
-- আমাকে দেখে হাসার কি আছে।
-- আজকে কোনো অনুষ্ঠান নেই তুমি শাড়ি পড়ে এসেছো কেন।
-- আমার ইচ্ছে হইচে তাই।
-- হা হা সুন্দর লাগছে হু হু হু, খুব সুন্দর লাগছে।
-- সুন্দর লাগছে বলতে কি হাসতে হয় নাকি।
-- তোমার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আমার হাসি আসছে।
-- সত্যি কি আমাকে খারাপ লাগছে।
-- আরে না না খুব সুন্দর লাগছে। আমি তো প্রেমে পড়ে গেছি। হি হি হি।
-- আমাকে নিয়ে মজা করছো।
-- না তো মজা কেন করব।
-- তাহলে এমন হাসছো কেন।
-- হাসি আসতেছে আমি কি করব কাদবো না কি ব্যা ব্যা করে।
--……???(চুপ করে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে মেঘা। চোখের কোনো হালকা পানিও জমে গেছে। মনে হচ্ছে বৃষ্টি নামবে। অতঃপর বৃষ্টি নেমেই আসলো।)
-- আরে তুমি কাঁদছো কেন??
--………???(শব্দহীন কান্না চলছে মেঘার চোখের কাজলে কালো রেখা টেনে দিল মেঘার গালে)
-- তুমি কাদো কেন???
--………??( কান্না আসতে আসতে তীব্র হচ্ছে, ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতে লাগল)
-- তুমি কি বাচ্চা নাকি কাদছো কেন কান্না বন্ধ কর। সবাই দেখছে কিন্তু।
.
সাব্বিরের কোনো কথা শুনছে কেদেই চলেছে। কিভাবে কান্না থামাবে কোনো উপায়ও খুজে পাচ্ছে না। শেষমেশ মেঘাকে সোজা বুকে নিয়ে নিল।
.
-- এবার তো কান্না বন্ধ করো ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।
-- ……??( তাও কাদছে)
-- মেঘা কান্না বন্ধ করো আমার শার্ট ভিজে গেছে তো।
-- ভিজুক।
-- আমার ঠান্ডা লেগে যাবে।
-- এমন করে হাসছিলে কেন। কতো কষ্ট করে তোমার জন্য সেজেগুজে আসছি আর তুমি হাসো।
-- তা তো তোমাকে রাগাতে।
-- আমাকে রাগাতে নাকি কাদাতে।
-- না রাগলে কি কাদতে তুমি
-- আমাকে কাদাতে ভালো লাগে তাই না।
-- কি বলে পাগলি তোমার কান্না থামাতে তো বুকে নিলাম তোমাকে।
-- ঢং করো না। আমি জানি তুমি আমাকে কাদাতে ভালো লাগে।
-- সত্যি তোমাকে কাদাতে নয় রাগাতে ভালো লাগে।
-- হুম তাহলে এতোদিন ভালবাসি বলোনি কেন???
-- ভালবাসি বললে কি এই সাজটা দেখতে পেতাম।
-- তার মানে তুমিও আমাকে ভালবাসতে।
-- আবার জিগায়।
-- আই লাভ ইউ বলো
.
-- পাপা পাপা আমাকে আজকে বেড়াতে নিয়ে যাবে।
-- হুমম আম্মু নিয়ে যাবো।
-- সত্যি পাপা।
-- হুম সত্যি।
-- তিন সত্যি বলো।
-- সত্যি সত্যি সত্যি তিন সত্যি আজকে আমার অবনী মামণিকে বেড়াতে নিয়ে যাবো।
-- আই লাভ ইউ পাপা, উমমমমমমমম্মা।
-- আই লাভ ইউ টু মামণি, উমমমমমমমম্মা।
.
শরীর পুরা শক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরে পাপার গালে চুমু দিলো অবনী। সাব্বিরও দিলো অবনীর কপালে। ছোট্ট অবনী। মেঘার শেষ স্মৃতি।
অবনীকে নিয়ে সাব্বির আজো বেচে আছে। অবনীকে জন্ম দিতে গিয়েই মেঘার জীবনাবসান ঘটে। পাঁচবছর হয়ে গেল মেঘা পৃথিবী ছেড়ে সাব্বিরকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেছে আর দিয়ে গেছে আজকের ছোট্ট পাঁচবছরের অবনীকে।
.
মেঘার কথা ভাবতে ভাবতেই সাব্বির অতীতে হারিয়ে ছিল। কিন্তু সাব্বির একা নয়, ছোট্ট অবনী আছে সাব্বিরের। তার স্বপ্নের দিকে তাকিয়ে সাব্বির আরেকটা বিয়ে করেনি। কারণ সৎ মা কেমন হয় কে জানে সেই ভয়ে সাব্বির নতুন কাউকে মেঘার
স্থানটি দেয়নি।
আর মেঘা রেখে গেল
ভালোবাসার অসমাপ্ত গল্প।
-----------------------




অসম্ভব সুন্দর একটি মধুর প্রেমের গল্প। পড়ে দেখবেন।

অসম্ভব সুন্দর একটি মধুর প্রেমের গল্প। পড়ে দেখবেন।



ক্লাস থেকে বের হয়ে একটু চিন্তায় পরলাম।
পকেটে মাত্র একশ টাকা। সম্বল বলতে এটুকুই।
কাল নীরার জন্মদিন। তিন বছর ধরে একসাথে
আছি। মেয়েটাকে কখনোই কিছু দেয়া হয়নি।
পৃথীবিতে কিছু কিছু মেয়ে আছে যারা
অল্পতেই খুশী। নীরাও তাই। ও এমন একটা
মেয়ে যার কাছে কিছুই লুকানো যায়না। আর তাই
তিন বছরের মধ্যে ওর সামনে কখনো মন খারাপ
করতে পারিনি। এমনিতেই ও অনেক বেশি কেয়ারিং।
নীরার সাথে আমার পরিচয় ফার্মগেটে। ইউ-সি-সি
তে কোচিং করার সুবাদে। ক্যাডেট কলেজ

থেকে বের হয়ে প্রথমেই নিজেকে গুছিয়ে
নিতে কিছু সময় লাগে। জীবনের বড় একটা অংশ
মেয়েদের কাছ থেকে দূরে থাকার ফলে
মেয়েদের প্রতি তীব্র কৌতূহল ছিল। যদিও
ছেলে হিসেবে আমি বেশ লাজুক প্রকৃতির।
একবার কোচিং এর সামনে বসে ফুচকা খাওয়ার পর
টাকা দিতে গেলে খেয়াল করলাম পকেটে
মানিব্যাগ নেই। এক প্রকার অস্বস্তির মধ্যে পড়লাম।
ছোটবেলা থেকেই আত্মসম্মান বোধটা আমার
প্রচন্ড। ফুচকাওয়ালাকে বললাম 'মামা, মানিব্যাগ
ফেলে এসেছি। আমার কাছে টাকা নাই। এই ঘড়িটা
রাখুন।' দোকানী বিজয়ীর হাসি দিল। স্টিভ জবস
আইপড আবিস্কার করে যেমন হাসি দিয়েছিলেন
অনেকটা সেরকম। জীবনের সেই চরম
অপমানজনক অবস্থা থেকে নীরাই আমাকে রক্ষা
করেছিল। সেই থেকে একসাথে আছি।
জীবনের বাকীটা পথও এভাবেই থাকার ইচ্ছা।
মনে মনে একটা হিসেব দাঁড় করালাম। কাল নীরার
একুশতম জন্মদিন। শাহবাগ থেকে একুশটা সাদা
গোলাপ কিনতে হবে। আর সাথে নীরার
সবচেয়ে পছন্দের কৃষ্ণপক্ষ বইটা। সবমিলিয়ে
দেড়শ টাকার মধ্যে হয়ে যাওয়ার কথা। বিকেলে
অবশ্য হাতে কিছু টাকা আসবে। প্রথম আলোর
সাহিত্য পাতায় গত সপ্তাহে আমার একটা লেখা ছাপা
হয়েছিল। তার সম্মানী হিসেবে কিছু পাওয়ার কথা।
আসলে ঢাকা শহরে অর্থের কষ্টটা কাউকে
বুঝতে দেয়া যায়না। প্রিয় মানুষ গুলোকে তো না
ই। আর নীরা যদি জানতে পারে আমার এ অবস্থা তা
হলে নির্ঘাত খুন করে ফেলবে। হাতে এক হাজার
টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে বলবে 'ধুর গাধা।
ফ্রেন্ডদের কাছে কিছু লুকোতে হয়?' গত
তিনবছরে অনেকবার এমন হয়েছে। যদিও নীরা
আমার শুধু বন্ধুই না, বন্ধুর চেয়ে কিছুটা ওপরে।
আর প্রেয়সীর চেয়ে কিছুটা নিচে। তবে আমার
ইচ্ছে কাল ওকে আমার ভালোবাসার কথা বলবো।
আগে থেকেই প্লান করা। সকালে ও টিএসসি তে
আসবে। সেখান থেকে দু জন ধানমন্ডী
যাবো। বিকেলে আশুলিয়া। নীরার সাথে ঘোরার
একটা আলাদা মজা আছে। সারাক্ষন পাগলামী করবে।
কখনো চুল ধরে,কখনো শার্ট ধরে টান মারবে।
আর সবসময় হাসির কথাবার্তা। দামী কোন
রেস্তোরায় খেতে গেলে বলবে 'ধুর
বোকা,তুই কি অনেক টাকা আয় করিস? তার চেয়ে
আয় বাদাম খাই। শোন বাদাম হলো ভালোবাসার ফল।
দেখিস না খোসার মধ্যে দু টো ফল। একটা তুই
আর একটা আমি। আর আবরন হয়ে আছে
ভালোবাসা কিংবা বন্ধুত্ব। বলেই জোড়ে হাসত। ঢাকা
শহরের আকাশ বাতাস কাঁপানো সে হাসি দেখে
মনে হত এই মেয়ের কোন দুঃখ নেই। থাকতে
পারেনা।
বিকেলে কাওরান বাজারে প্রথম আলোর অফিসে
গেলাম। যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অল্প কিছু টাকা
বেশি পাওয়া গেলো। হলে ফেরার পথে একুশটা
সাদা গোলাপ কিনলাম। ইচ্ছে ছিল লাল গোলাপ
কিনবো। কিন্তু নীরা এখনো আমার বন্ধু। লাল
গোলাপ দেয়ার সাহস হলোনা। ফুল কেনার পর
গেলাম আজিজ মার্কেটে। অনেক খুঁজে
কৃষ্ণপক্ষ বইটা কিনলাম। হাতে কিছু টাকা বেশি থাকায়
একটা কবিতার বই ও কিনলাম। নীরার আবার সুনীল
খুব পছন্দ। মাঝেমাঝে ক্লাসের ফাঁকে ও বলত
...এই গাধা,তুই কি কিছুই লিখতে পারিসনা? দেখিস না
সুনীল কি সুন্দর করে লিখেছে...এ হাত
ছুঁয়েছে নীরার হাত। আমি কি এ হাতে কোন পাপ
করতে পারি? ইস যদি কেউ আমার হাত ধরে এভাবে
বলত. . . .দেখতাম নীরার অভিমানী চোখ দুটো
ছলছল করে উঠতো। আমার খুব ইচ্ছে হত
নীরার হাত ধরে বলি 'আমি আর কখনো পাপ
করবোনা নীরা, তোর হাত টা একটু ধরতে দিবি???
গত চৌদ্দই ফেব্রুয়ারীর কথা। খুব সকালে নীরার
ফোন। ঘুম জড়ানো কন্ঠে মোবাইল রিসিভ
করে বললাম 'কি রে,তুই এত সকালে? ওপাশ
থেকে নীরা শাসনের সুরে বললো 'আমি
কলাভবনের সামনে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে চলে
আয়। আমি স্বভাবতই একটু ঢিলেঢালা। নীলা জানতো
আমার আসতে আধঘন্টা লাগবে। তবুও অসহায়
মেয়েটি আমার পথের দিকে তাকিয়ে থাকতো।
কিছুক্ষন পর এসে দেখি নীরা দাঁড়িয়ে আছে।
নীল শাড়ী পরা নীরাকে দেখে মনে হল এক
টুকরো আকাশ আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মুগ্ধ
চোখে নীরার দিকে তাকিয়ে বললাম 'তুই
আসলেই অনেক সুন্দর...'
নীরা অভিমানের স্বরে বললো 'তুই আসলেই
গাধা, এতো দিনে খেয়াল করলি? শুধু আমার মনের
ভেতর কোথাও বেজে উঠতো ...ভালোবাসি
তোমাকে. . ."
সকাল থেকেই নীরার জন্যে অপেক্ষা।
কখনো ও এত দেরী করেনা। মনের মাঝে
অজানা আশঙ্কা কাজ করছে। আজ আবার হরতাল।
কখন কি হয় বলা যায়না। আজ অনুধাবন করলাম
অপেক্ষার কষ্ট আসলেই অনেক। প্রতিবারই
নীরাকে যা আমার জন্যে সহ্য করতে হয়। এসব
ভাবতে ভাবতে সামনে আগালাম। গোলাগুলির শব্দ।
নীরার মোবাইলে ফোন দিলাম। অনেক
আওয়াজের মধ্যে অপরিচিত একটা কন্ঠ বলল 'একটা
মেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে,শাহবাগ মোড়ে
আসেন। আমি অবাক বাকরুদ্ধ হয়ে উদভ্রান্তের
মত ছুটলাম। ভীড় ঠেলে সামনে এগিয়ে দেখি
নীরা। মাটিতে লুটিয়ে আছে। ফিনকি দিয়ে পরা
রক্তের অজস্র ধারায় সাদা শাড়ী খানা খয়েরী
হয়ে গেছে।. . . .
তানভীরের ডাকে তন্দ্রা ভাঙলো। এই ওঠ
বারোটা বাজে। নীরাকে Wish করবিনা? হঠাত্
করেই নিজেকে আলাদা এক জগতে আবিস্কার
করলাম। কি দুঃস্বপ্নটাই না দেখেছি। এক মুহুর্ত
দেরী না করে নীরাকে ফোন দিলাম। এক রিং
হতেই নীরা ফোন ধরল। 'কি ব্যাপার হাঁপাচ্ছিস
ক্যানো?কি হয়েছে?????"

আমি বললাম 'নীরা আমি তোকে অনেক অনেক
ভালোবাসি।আমাকে ছেড়ে যাবিনাতো. . . .?'
নীরা বললো কি পাগলের মত কথা বলছিস,কি
হয়েছে বলবিতো? আমি বললাম "শোন কাল
তোর আসতে হবেনা। দেশের অবস্থা ভালো
না। কাল হরতাল...'
নীরা অবাক হয়ে বলল ক্যানো?
মুখ থেকে মনের অজান্তেই বের হয়ে গেল
'আমি তোকে হারাতে চাইনা. . .I love u.................,I
love u so much. . . . .
_____THE END______