ভালোবাসার গল্প

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২০

অজানা এক পরীর ভালবাসা

অজানা এক পরীর ভালবাসা


রাত প্রায় ১২.৩০।ঘুমানোর প্রস্তুতি
নিচ্ছি।এত রাত পর্যন্ত জেগে থাকার
কারন হচ্ছে সামনে ভার্সিটি ভর্তি
পরীক্ষা।তাই পড়তে হয়েছে।বিছানা
পত্র গুছিয়ে।শুয়ে পড়া মাত্রই ঘুমিয়ে
পড়েছি।
.
একটা সময় ঘুমের মধ্যে খেয়াল করলাম-
কে যেন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে
দিচ্ছে? খুব ভাল লাগছিল তখন।এভাবে
অনেকক্ষন চলতে লাগল।ভালই
লাগছিল।
ঘুমের মধ্যে আমি তার হাতটা স্পর্শ
করি।নরম একটা হাতের স্পর্শ অনুভব
করলাম।
হঠাৎ ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠে বসে
পড়ে।চোখ মেলে দেখি আমার পুরো
রুমটা আলোকিত।কিন্তু আমিত লাইট
বন্ধ
করে ঘুমিয়েছি।তাহলে আলো আসছে
কোথা থেকে।
খেয়াল করলাম বিছানার পাশ থেকে
আলো আসছে।চেয়ে দেখলাম একটা
অতিব সুন্দরী মেয়ে আমার দিকে
তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।আমি
রীতিমত ভয় পেয়ে গেলাম কারন
আমার রুমের দরজা জানালা বন্ধ
তাহলে সে আসল কিভাবে!!!!!
.
ভয়ে আমার হার্টবিটটা বেড়ে গেছে।
এদিকে কি করব বুঝতে পারছি না?
চিৎকার করে আম্মুকে ডাকদিব নাকি
দৌড় দিব।মেয়েটা এখনো আমার
দিকে লজ্জা মাখা দৃষ্টিতে চেয়ে
আছে।
একটা সময় চিৎকার দিয়ে বললাম -
আম্মুইই
এমন সময় মেয়েটা আমার মুখটা চেপে
ধরল এবং বলল
-প্লিস তুমি এমন কর না।আমি অনেক দূর
থেকে এসেছি তোমাকে দেখার
জন্যে।যদি তুমি তোমার আম্মু চলে
আসে তাহলে আমাকে চলে যেতে
হবে।
এই বলে আমার মুখটা ছেড়ে দিল।আমি
বললাম
-আপনি কে?
মেয়েটা বলল
-আমি পরী।
আমি রীতিমত অবাক হয়ে গেলাম।কত
পরীর গল্প শুনেছি।কিন্তু বাস্তবে যে
পরী দেখতে পাব সেটা কখনো
ভাবিনি।
.
আস্তে আস্তে আমার ভয়টা কেটে
যেতে থাকল।কথা বলতে বলতে ফ্রি
হয়ে গেলাম।আমি যে তার রূপের
প্রেমে পড়ে গেলাম।এত সুন্দর মেয়ে
আমি আগে কখনো দেখিনি।কথা
বলতে
বলতে ফজরের আজানের সময় হয়ে এল।
পরীটা আমাকে বলল
-তাহলে এখন আমি যাই।
আমি বললাম
-এখনি চলে যাবে।
- হ্যা আজানের সময় হয়ে এল।এখন আর
থাকা যাবে না।
-যাবার আগে আমার একটা ইচ্ছা পূরণ
করবে।
-হ্যা বল।
-তোমার হাতটা একটু ধরতে পারি।
সে কিছু না বলে তার হাতটা আমার
দিকে বাড়িয়ে দিল।আমি আলত করে
তার হাতটা ছুয়ে দিলাম।একটু পরেই
চলে গেল।
.
সেদিনের পর থেকে প্রতিদিন আমি
রাতে তার জন্যে অপেক্ষা করি।কিন্তু
আর আসেনা।মাঝেমাঝে গভীর রাতে
জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে
থাকি দেখি তাকে দেখা যায়
কিনা? কিন্তু না সে আর আসছে না।
এভাবে তার অপেক্ষায় কেটে গেল
অনেক রাত।তার আর দেখা নেই।
এদিকে তাকে দেখার জন্যে আমার
মনটা ছটফট করতে লাগল।কিন্তু তার
দেখা নেই।
.
প্রায় দুইমাস পর কোন একদিন রাতে
আবারো আমার ঘুমের মধ্যে মাথায় কে
যেন হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।আমি আমার
হাতটা দিয়ে হঠাৎ করে তার হাতটা
ধরলাম এবং বললাম
-পরী এসেছ।
-কিভাবে চিনলে?
-কারন তোমার হাতের স্পর্শ আমার
চেনা হয়ে গেছে।
-বাহ তুমিত দেখছি অনেক বুদ্ধিমান।
স্পর্
শেই সব বুঝতে পার।
-আচ্ছা তুমি এতদিন আসনি কেন? জান
তোমাকে দেখার জন্যে আমি কত
নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি?
-আসলে তোমারত সামনে পরীক্ষা
ছিল।আমি এলে তুমি আমার সাথে কথা
বলতা।তোমার পড়ার সমস্যা হত।তাই
আসিনি।
.
সেদিন তার নামটা জানতে পারি।
তার নাম হচ্ছে "আইরি"।
.
সেদিনের পর থেকে প্রায় প্রতিদন
আইরি আসত।কেন জানি না আমি
আস্তে আস্তে আইরির প্রেমে পড়ে
যাচ্ছি।এতটা ভাল আগে কোন
মেয়েকে লাগেনি?
একদিন আইরিকে বললাম
-আচ্ছা আইরি একটা কথা বলব।
-হুম বল।
-ভালবাসবে আমায়।
আইরির মুখে একটা আনন্দের ছাপ
দেখতে পেয়েছিলাম।কিন্তু পরক্ষনেই
মুখটায় আবার চিন্তার ছাপ দেখতে
পেলাম।
আমি আবার বললাম
-কি হল বলছ না যে কিছু?
আইরি কি যেন ভাবছিল? একটু পর সে
বলল
-কিন্তু আমার আর তোমার মাঝে যে
তফাৎ সেটাত বাধা হয়ে দাঁড়াল।এটা
কি সম্ভব হবে?
-কেন সম্ভব হবে না!!!!তোমার জন্যে
প্রতিদিন রাতে আমি জানালার
পাশে দাঁড়িয়ে থাকব।অতঃপর তুমি
আসবে।ঘরের লাইটটা আমি বন্ধ করে
রাখব।তোমার আলোয় আমার ঘরটা
আলোকিত হয়ে উঠবে।তোমার
ভালবাসায় আমায় রাঙিয়ে তুলবে।
ভালবাসায় ভরপুর থাকবে আমার ঘরটা।
.
আমার কথাগুলো শুনে আইরি লজ্জা
মাখা মুখ নিয়ে মিটমিট করে হাসছিল।
কিন্তু কোন উওর দিচ্ছে না।
খানিকবাদে আমি আবার বললাম- কি
হল? উওর দিচ্ছ না যে।
আইরি সেদিন কোন উওর না দিয়েই
চলে গেল।পরেরদিন আবার যখন আসল
তখন
আমি আবার জিজ্ঞাস করলাম।কিন্তু
কোন উওর নেই? এভাবে প্রায় এক
সপ্তাহ
চলার পর একদিন আইরি আমার
প্রস্তাবে
রাজি হল।
.
সেদিন খুব আনন্দিত হয়েছিলাম আমি।
অজানা এক পরীকে ভালবাসতে
পেরে।প্রতিদিন আসত আমরা
সারারাত গল্প করতাম।ফজরের
আজানের আগে সে চলে যেত।আবার
পরেরদিন আসত।
এভাবে আমাদের ভালবাসার ছয় মাস
কেটে গেল।ভালই কাটছিল আমার আর
আইরির ভালবাসা।
.
হঠাৎ একদিন রাতে যখন আমি আর
আইরি
আমার রুমে বসে গল্প করছি তখন আম্মু
টের
পেয়ে গেল।
আমাকে দরজার ওপাশ থেকে
জিজ্ঞাস করল
-রুবেল
আমি রীতিমত ভয় পেয়ে গেলাম।
আইরি চুপ হয়ে গেল।
আমি বললাম
-জ্বী আম্মু
-কার সাথে কথা বলিস?
-বন্ধুর সাথে আম্মু।ভার্সিটি ভর্তি
সংক্রান্ত বিষয়।
আম্মু আর কিছু বলল না।কিন্তু আস্তে
আস্তে আম্মু টের পেয়ে গেল এবং
দেখে ফেলল আমাদের।আম্মুকে
দেখার
সাথে সাথে আইরি পালিয়ে গেল।
.
একদিন আব্বু অফিসে যাবার পর আম্মু
আমাকে জিজ্ঞাস করল-রাতে আমি
কার সাথে কথা বলি।
প্রথমে মিথ্যা বলার চেষ্টা করলেও
পারলাম না কারন মায়ের কাছে কোন
সন্তান মিথ্যা বলতে পারেনা।ধরা
খেয়ে যায়।আমি ধরা খেয়ে গেলাম।
সত্যটা আম্মুকে বললাম।
আম্মু আমার কথা শুনে কাঁদতে লাগল।
কিন্তু কেন তা বুঝতে পারলাম না?
পরেরদিন আম্মু আমার হাতে কি যেন
একটা বেধে দিয়েছিল?
সেদিন রাতে আমি আইরির জন্যে
অপেক্ষা করছি।রাত প্রায় ৩টা হয়ে
গেছে কিন্তু আইরি আসছে না।মাথায়
চিন্তা ডুকে গেল।আগেত আইরি ২টার
আগে চলে আসত কিন্তু আজ আসছে না
কেন?
একটু পর জানালার পাশে কান্নার
আওয়াজ পেলাম।জানালার কাছে
গিয়ে দেখি আইরি কাঁদছে।আমাকে
দেখে আইরি দূরে সরে যেতে লাগল
আর বলল
-এই তুমি আমার কাছে আসবে না।তুমি
আমার কাছে আসবে না।
আমি বললাম
-কেন? কি হয়েছে? আর কাঁদছ কেন
তুমি?
-তোমাকে নিয়ে ভালবাসার একটা
স্বপ্ন দেখেছিলাম তুমি এটা করতে
পারলে।
-কেন আমি আবার কি করলাম?
আইরি চোখ মুছতে মুছতে বলল
-তুমি হাতে এটা পরেছ কেন?
বুঝতে পারলাম হাতের এই জিনিসটার
জন্যে আইরি আমার কাছে আসতে
পারছে না।
.
পরেরদিন আম্মুকে বললাম-আম্মু এটা
খুলে ফেলি।
আম্মু বলল- তুই যদি এটা খুলে ফেলিস
তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি।
আর কোন কথা বলতে পারিনি।তারপর
থেকে আইরি প্রতিদিন জানালার
পাশে এসে কাঁদত।মাঝেমাঝে ইচ্ছে
হত খুলে ফেলি হাতের ওটা।কিন্তু
আম্মুর কথা চিন্তা করে পারিনি।
আস্তে আস্তে আইরি আসাটা বন্ধ করে
দিয়েছে।
এখনো জানালার পাশে মাঝরাতে
দাঁড়িয়ে থাকি আইরির অপেক্ষায়।আর
ভাবি যদি আইরি আবার আসত।
আইরির ভালবাসার স্পর্শ এখনো আমি
অনুভব করতে পারি ।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন