ভালোবাসার গল্প

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

শ্মশানের ভূত

সময়টা 2006 সাল। আমি আর মামা এক রুমে ঘুমিয়েছি। বাড়ির সবাই এক আত্মিয়ের বাড়িতে গেছে বিয়ের অনুষ্টানে। সারা বাড়িতে মামা আর আমি মিলে দুজন মানুষ। নানু বাড়িটা এক অজপাড়া গায়ে। বাড়ির পিছনে বিশাল লিচু বাগান। তার পিছনেই ফসলের মাঠ। যতদূর চোখ যায় শুধু ধানী মাঠ। ...
.


রাত এগারোটা ..মামার প্রকৃতির ডাক পেয়েছে। সেইসময় ভূত প্রেতের উপদ্রব একটু বেশিই ছিলো। মামা আমাকেও ডাক দিলেন। দুজনে বাইরে গেলাম। একা যাওয়ার সাহস হয় না। তাছাড়া সেসময় ইলেকট্রিসিটি ছিলো না। মামা তার ছোট পেন্সিল ব্যাটারি চালিত টর্চটা সাথে নিলেন। দুজনে চল্লাম বাগানের দিকের টয়লেটে। হঠাৎ মামা থেমে গেলো।
_কি হলো মামা থামলেন কেন?
_সামনে দেখতো
সামনে তাকিয়ে দেখি লিচু গাছের গোড়ায় একটা আলো। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না এটা হারিকেনের আলো নাকি অন্যকিছু। আমাদের থেকে আনুমানিক বিশ গজ দূরে আলোটা।মামা কিছু একটা ভেবে বল্লেন ...
_আমার মনে হচ্ছে চোর এসেছে লিচু চোর করতে। চলো চোরটাকে আজ ধরতেই হবে।
ফিসফিসিয়ে মামা আমায় কথাগুলো বল্লেন। আমি তখন অনেক ছোট ছিলাম। ভূতের ভয় তো ছিলো তাছাড়া চোরকেও সেসময় ভয় পেতাম। তবুও মামার কথায় সায় দিলাম। মামা আর আমি দুজনে আলোর উৎসের দিকে যেতে লাগলাম। হাটতে হাটতে সেই লিচু গাছটার গোড়ায় চলে গেলাম। একি আলোর উৎসটা এখনো আমাদের থেকে বিশ গজ দূরেই অবস্তান করছে। মামা আমাকে বল্লো..বেটা মনে হয় টের পেয়েছে আমাদের। মামা তার টর্চ টা আলোর দিকে তাক করলেন কিন্তু স্পষ্ট কিছু দেখলো না। মামা ক্ষেপে গেলেন। আজ চোরের একদিন কি আমার একদিন। এই বলে মামা চোরের পিছনে ছুটতে লাগলেন। আমিও ছুটতে লাগলাম মামার পিছনে পিছনে। বাগান পার হয়ে ধান ক্ষেত ঢুকে পরেছি। তবু চোরের কাছাকাছি যেতে পারছি না। চোরের কোনো ক্লান্তিও দেখছি না। তার কোনো পায়ের শব্দ ও পাচ্ছি না। মামা হাঁপিয়ে গেছে সাথে আমিও। চারদিকে তাকালাম শুধুই অন্ধকার। পায়ের নিচে জমির কাদা মাটি। কিন্তু আলোর উৎস টাও এখন থেমে আছে। ঠিক বিশ গজ দূরেই। আমি মামাকে বল্লাম মামা এটা যদি চোর হতো তাহলে তো কবেই পালাতো কিন্তু এটাতো আমাদের কাছাকাছি দাড়িয়ে আছে। মামার মাথায় আগুন চেপেছে। মামা তাকে ধরেই ছাড়বে। আবার ছুট। ধান ক্ষেতের মাঝে খালের পারে দাড়ালাম আমরা। খালের ওপারে একটা শ্মশান আছে । এই শ্মশানকে ঘিরে অনেক ভূতুড়ে কথা প্রচলিত আছে গ্রামে। আমরা দেখলাম শ্মশান ঘিরে অনেকগুলো আলোর কুন্ড ওড়াউড়ি করছে। আমি তো প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম। মামা তবুও আমায় সাহস রাখতে বল্লো। বল্লো চলো বাড়ির দিকে যাওয়া যাক। এই জায়গাটা বেশি ভালো না। দুজনে বাড়ির দিকে হাটছি। আমি পিছনে ফিরে একবার তাকালাম। আলো গুলো এখনো ওড়াউড়ি করছে। জোরে পা চালাতে লাগলাম দুজন। বাড়ির পিছনের লিচু বাগানের ভিতর দিয়েই ঢুকতে হবে বাড়িতে।আমরা লিচু বাগানে ঢুকার সাথে সাথেই লক্ষ করলাম একটা লিচু গাছের গোড়ায় একটা আলোর কুন্ড। আমাদের থেকে আনুমানিক বিশ গজ দূরে। আমাদের দুজনেরই শরীর হিম হয়ে আসছে। এদিকে টর্চের ব্যাটারি ডাউন। টর্চটাও নিভে যাচ্ছে। থেকে যাচ্ছে শুধুই অন্ধকার আর বিশ গজ দূরের সেই আলোর কুন্ডটা।
.
-------সমাপ্ত------

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন